বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সড়কে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না সচেতনতা।
দেশে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। বাইকারদের একটা বড় অংশ আমাদের তরুণ সমাজ। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ ছেলেদের কাছে মোটরসাইকেল রীতিমতো স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে। বয়সের আগেই মোটরসাইকেলের নেশায় মত্ত অধিকাংশ তরুণ। বাবা-মা আবদার পূরণ করতে না চাইলে অবাধ্য হয়ে ওঠে কেউ কেউ। ঘটে নানান অসামাজিক ঘটনাও। শুধু গতির নেশাই নয়, নানাবিধ কারণ ও খামখেয়ালিপনায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেমন হেলমেটের ব্যবহার না করা, অল্প বয়সে মহাসড়কে বাইক চালানো, উচ্চগতি, ওভারটেকিং প্রবণতা, ঘন ঘন লেন পরিবর্তন, ফোনে কথা বলে মোটরসাইকেল চালানো, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩১ লাখের বেশি। এর বাইরে একটি বড় অংশের মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত। এসব অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলও রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক। দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধ করতে নেই তেমন ইতিবাচক পদক্ষেপ। যেকোনো বড় দুর্ঘটনার পর কিছুদিন সে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন টক শো থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে সরগরম থাকলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ কিংবা আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা মেলে না। দেশে দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পরিবহন মালিক সমিতির উদ্দেশ্য নানা রকম আইন আরোপ করা হলেও কে শোনে কার কথা।

আইন বাস্তবায়নে ফাঁকফোকর থাকায় নিত্যদিনই মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কাছে হেরে যাচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ। মোটরসাইকেল এমন এক যান, যেটা সতর্কতার সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চালাতে পারলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। আর অনিয়ম, অসচেতনতা ও অসতর্কভাবে চালালে দ্রুত কবরে পৌঁছে দেবে। তাই বাইকারদের উচিত হবে নিয়ম মেনে সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালানো। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কর্তৃক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
*লেখক: সাগরিকা সুলতানা প্রিয়া, শিক্ষার্থী, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

আয়োজন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন