default-image

রাজধানীর কাছেই ৩২ একরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ অনলাইনে নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা সম্পন্ন করে প্রশংসায় ভাসছে। ১৫ নভেম্বর (রোববার) সকালে জুম অ্যাপের মাধ্যমে এ আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

গোটা আয়োজনকে দুই পর্বে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বরণ, বক্তব্য, নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। নৃত্য পরিবেশন, গান, কবিতা, কৌতুক, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে সাজানো হয় দ্বিতীয় পর্ব।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা। কম সময়ে সঠিক উত্তরদাতা পেয়েছেন আকর্ষণীয় উপহার। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয় সৌজন্য উপহার সামগ্রী।

উপহার সামগ্রী ও স্মারক প্রাণরসায়ন বিভাগে সংরক্ষিত আছে৷ ক্যাম্পাস খুললে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ উপহার প্রদান করা হবে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের।

প্রাণরসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের নবীনবরণ ও ২য় ব্যাচের বিদায় দেওয়া হয়েছে। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিশাল ও মনোরম ক্যাম্পাস পেয়ে আমরা আনন্দিত। এ বিভাগে ভর্তি হয়ে আমরা গর্ববোধ করছি৷ করোনাকালেও অনুষ্ঠান আয়োজন করে আমাদের বরণ করা হবে, তা কল্পনাতেও ছিল না। বলতেই হবে আমরা (১০ম ব্যাচ) ভাগ্যবান।’

বিজ্ঞাপন

২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাণরসায়ন বিভাগ এত সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিগত চার বছরে কোনো কাজে কেউ কষ্ট পেলে আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা বিভাগের ২য় ব্যাচ, পরবর্তী জীবনেও আপনাদের এই ভালোবাসা এবং উপদেশ একমাত্র কাম্য।’

নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাণরসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. ফুয়াদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু৷ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. এস তাসাদ্দেক আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম খলিল, বিভাগীয় শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা।

ড. ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানের প্রাণ বিদায়ী ব্যাচের ও নবীন শিক্ষার্থীরা। বিদায়ীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি এবং নবীনদের স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের বিভাগ অন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য বিভাগের মতো নয়। তাই তোমরা নিজেদের আগে ভাগ্যবান মনে করো। আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি৷ এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হতে হবে৷ তোমরা যে বিভাগে আছ, তা চ্যালেঞ্জের ও গৌরবের।’

গবির উপাচার্য ডা. লায়লা পারভীন বানু বলেন, ‘এমন ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের ও আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গণ বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনেও এগিয়ে, এই অনুষ্ঠান তার একটি উদাহরণ। আমরা আমাদের কার্যক্রম অনলাইনেই চালিয়ে যাব।’

করোনার লকডাউনের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বিদ্যাপীঠটি৷ চলতি সেমিস্টারেও একাডেমিক পাঠদান চলছে নিয়মিত।

মন্তব্য পড়ুন 0