বিজ্ঞাপন

‘তা কি করছ আর। বাসার সবাই ভালো তো?’ এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবেগটা আর ধরেই রাখতে পারলেন না এম সি কলেজের সবচেয়ে প্রবীণ এই চানাচুরবিক্রেতা। খানিকটা কাঁদো কাঁদো সুরেই বললেন, ‘কলেজে সারা দিন চানাচুর বিক্রি করে যা পাইতাম, এইটা দিয়া সংসার চালাইতাম। এখন কলেজ বন্ধ থাকায় আর কোথাও গিয়ে তেমন একটা বেচতেও (বিক্রি) পারি না। বুড়া মানুষ দেখে কেউ কামেও নেয় না। মাঝে সরকার থাইকা কিছু বাজার পাইছিলাম। পরে তা–ও আর পাইনি। খুব কষ্ট করে চলতেছি।’

আজুল মিয়া অনলাইন কিংবা ইন্টারনেট দুনিয়ার মানুষ নন। ঘরে টিভিও নেই। ফলে কলেজ কবে খুলবে, সেই খবর নিতেই কদিন পরপর মিরাবাজার এলাকা থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে টিলাগড়ে আসেন। আজও এসেছিলেন রুটিরুজির জায়গাটা কবে থেকে চালু হবে, সেই খবর জানতেই। আজুল মিয়া বলেন, ‘তোমরার কথা খুব মনে হয় দাদু। পরিবার নিয়া বড় বিপদে আছি’ উল্লেখ করে সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ বলেন, ‘আচ্ছা দাদু, হাচা (সত্যি) করে বলো তো, কলেজটা কবে খুলব?’

আজুল মিয়ার মতো আরও ১০-১৫ জন মানুষের জীবিকা নির্বাহের জায়গা সিলেটের এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। চা, চানাচুর, বরই, বাদাম, বুট ইত্যাদি বিক্রি করেই সংসার চলে তাঁদের। কলেজের কেউ না হলেও শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সবার কাছেই অতি আপন হয়ে উঠেছেন এই মানুষগুলো। ছোট ছোট এই জিনিসগুলো বিক্রি করে ছাত্রছাত্রীদের বিনোদনের খোরাক হচ্ছেন। ঠাঁই করে নিয়েছেন অগণিত শিক্ষার্থীর মনে। কলেজের সুন্দরের একটা দিক হয়ে আছেন শ্রমজীবী এই মানুষেরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আঙিনায় আড্ডা দেওয়া ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটা–সেটা নিয়ে সারাক্ষণই ছোটাছুটি করেন তাঁরা।

যে কারণে অনেকেই তাঁদের এম সি কলেজের পাখি বলে সম্বোধন করেন। কারও কাছে মামা, কারও কাছে ভাই, কেউবা দাদু বলে ডাক দেন ক্যাম্পাসের এই মানুষগুলোকে।

কোভিড-১৯–এর কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতোই বন্ধ আছে সিলেটের শতবর্ষী কলেজটাও। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তাঁদের আয়–রোজগারও বন্ধ। ফলে মানবেতর জীবন কাটানো এই মানুষগুলো সারাক্ষণই কলেজ খোলার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আর পরিচিত কাউকে পেলেই জিজ্ঞেস করছেন, ‘কলেজটা কবে খুলবে দাদু?’

লেখক: আশরাফ আহমেদ, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, এম সি কলেজ সিলেট

আয়োজন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন