বিজ্ঞাপন

আচ্ছা, দিনাজপুরে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে যখন তাকে ধর্ষণ করা হয়, শিশুটির কী দোষ ছিল? তার দোষটা কি এই পৃথিবীতে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া? তিন বছর বয়সী শিশুটি যখন প্রতিবেশী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে রক্তক্ষরণে হাসপাতালে ভর্তি হয়, একবার ও কি আমরা অনুভব করেছি তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ? সে তো শিশু, হয়তো আধো আধো বোলে বাংলা বলে ঠিকমতো কথাই শেখেনি। বাকি জীবনে সে কি আর কোনো পুরুষকে শ্রদ্ধা করতে পারবে? কিংবা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে শহরগামী কোনো মেয়ে দীর্ঘদিন পর বাড়িতে ফিরবে। মাকে হয়তো ফোন দিয়ে তার পছন্দের খাবার রাঁধতে বলেছে। ছোট ভাইবোনদের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে উপহার। ভেবে দেখুন তো, চলন্ত বাসে তাকে যদি ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, তার জায়গায় আপনার বা আমার বোনকে কল্পনা করা হয়, অন্তরাত্মা কীভাবে কেঁপে উঠবে?

তবু আমরা এসব এড়িয়ে চলতে শিখেছি। দুই দিন পর পর কোনো খবর আমাদের চোখে পড়ল, যে যার মতো শেয়ার করলাম, আলোচনা চলল। নতুন কোনো ‘হট ইস্যু’ এলে আমরা আগেরটাকে ছুড়ে ফেলি। কেনইবা ফেলব না, আমাদের সঙ্গে তো আর হয়নি, একটু–আধটু ওসব হয়ই। এসব তো আইন-আদালত দেখবে?

আসলেই কি সম্ভব? একবার সেই মেয়ে বা তার পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করে দেখুন তো আদৌ কি চুপ থাকা যায়? কবে সুদিন আসবে? মানুষের মনুষ্যত্ববোধ লোপ পাবে না। শান্তির পৃথিবীতে আমরা প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারব?

  • লেখক: নাফিসা তাসনিম বিনতে খলিল, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ, নাটোর।

আয়োজন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন