জানা যায়, বাঙালি লোকসংস্কৃতির একটি অন্যতম ধারা কবিগান, যা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। সেই হারিয়ে যাওয়া কবিগান প্রতিবছর শ্যামা কালীপূজার পরপরই আয়োজন করে আসছে কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী শ্যামা কালীমন্দির পরিচালনা কমিটি।

হারমনিয়াম, ঢোল, বাঁশি, বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক ও গানে গানে দুই কবিয়ালের মধ্যে লড়াই চলছে। এদিকে শীতের পরশে চাঁদর ও কাঁথা মুড়িয়ে মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউবা মাটিতে বিছানো চটে বসে আবার কেউ কেউ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে উপভোগ করছেন। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কবিগান শুনে অনেকেই খুশি। আবার অনেক প্রবীণরা হারিয়ে গেছিলেন সেই পুরোনো দিনগুলোতে।

শিবনগর ইউনিয়নের মধ্যসুলতানপুর থেকে আসা দর্শক বেলী রানী ও তপতি রানী বলেন, লোকসংগীতের মধ্যে লালন, বাউল, ভান্ডারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, কীর্তন, কবিগান, যাত্রাপালা, শ্যামাসংগীত আমাদের খুবই প্রিয়। এসব গানের আসর বসলেই আমরা সেখানে যাই। এখানে এসে কবিগানের তর্ক-বিতর্কের যুদ্ধ আর কবিতার ছলে গান শুনে অনেক ভালো লেগেছে।

কবিগানের পৃষ্ঠপোষক কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী শ্যামা কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়প্রকাশ গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক জয়রাম প্রসাদ বলেন, শত বছর ধরে শ্রীশ্রী শ্যামা কালীপূজার পরপরই প্রতিবছর মন্দিরের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এ কবিগানের আয়োজন করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে কবিগান শুনতে মন্দিরে জড় হন দর্শক ও ভক্তরা। সব ধর্মের মানুষ রাত জেগে এ কবিগান উপভোগ করেন।

দিনাজপুর জেলা শাখা বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের অন্যতম সদস্য সহকারী অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু বলেন, সময়ের সঙ্গে কবিগান আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখানে এসে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও খুঁজে পেয়েছি সেই পুরোনো আনন্দ।