ছায়ানটে কুঞ্জলিকার নৃত্যানুষ্ঠান
সেদিন ছিল ১২ আষাঢ়। আষাঢ়ের সন্ধ্যায় ঢাকার ছায়ানট মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল একদল প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায়। শাস্ত্রীয়, লোকজ ও সৃজনশীল নৃত্য পরিবেশন করেন কুঞ্জলিকা সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিল্পীরা। নতুন ও অভিজ্ঞ সব স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দর্শকেরা উপভোগ করেন এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন সঞ্চিতা, তাসমিয়া, প্রতিভা, মঞ্জিমা, পারমিতা, শুচি, শিমু, সিঙ্কোনা, প্রজ্ঞা, শুভার্থী, শান্তা, রোমানা, দিল, সোমা, রাওফুন, পূর্ণতা, প্রেরণাসহ একদল প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। তাঁদের প্রাণবন্ত ও নান্দনিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় আলারিপ্পু, যা ভরতনাট্যম নৃত্যধারার একটি প্রথাগত উদ্বোধনী পরিবেশনা। তাল, লয় ও অঙ্গসঞ্চালনার সমন্বয়ে এই পরিবেশনা শিল্পীদের দক্ষতা ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের সৌন্দর্যকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে।
রবীন্দ্রসংগীত ‘মোর বীণা ওঠে কোন্ সুরে বাজি’ এবং ‘আমার মল্লিকাবনে, যখন প্রথম ধরেছে কলি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা করেন কুঞ্জলিকা সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিল্পীরা। এ ছাড়া সমসাময়িক গান ‘কিছু স্বপ্ন, কিছু মেঘলা, কিছু বইটই ধুলো লাগা, কিছু ইচ্ছে সাড়া দিচ্ছে এ বসন্ত রাত জাগা’র সঙ্গেও একটি ব্যতিক্রমধর্মী নৃত্য পরিবেশিত হয়।
২৬ জুনের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও নৃত্যশিল্পী বৃষ্টি বেপারীর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নৃত্যনাট্য ‘রুদ্র-বীণা’। ধর্ষণের শিকার নারীদের প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রযোজনাটি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
অনুষ্ঠানে কুঞ্জলিকা সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে কুঞ্জলিকা সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক বৃষ্টি বেপারী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, অভিভাবকদের সহযোগিতা ও উপস্থিত দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতেও আমরা আরও মানসম্মত ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে সবার সামনে উপস্থিত হতে চাই।’
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]