বিলুপ্তপ্রায় বায়োস্কোপ ও এক শৈশবের বিস্ময়
ছুটির দিনে বাড়ির আঙিনায় ১০ পয়সার সেই ‘জাদুর বাক্সে’ বা বায়োস্কোপে সিনেমা দেখার গল্প আজও মায়ের শৈশব স্মৃতির এক বড় অংশজুড়ে আছে। সাইকেলের পেছনে বাঁধা কাঠের বাক্স, রংবেরঙের জামা আর বাবরির সেই বায়োস্কোপওয়ালার ডাক শুনলেই মা–মামারা নাকি নানার কাছে বায়না জুড়ে দিতেন। নানা যেদিন হাতে পয়সা গুঁজে দিতেন, সেদিন তাঁদের দৌড় থামত সেই জাদুর বাক্সের সামনে গিয়ে। টিনের ফোকরে চোখ রেখে ছবি দেখার সময় বায়োস্কোপওয়ালার খঞ্জনির তালে তালে গাওয়া গানের বর্ণনায় যেন সেই স্থিরচিত্রগুলোও জীবন্ত হয়ে উঠত তাঁদের কাছে।
তবে আমার সময়ে টেলিভিশনের সহজলভ্যতা আর বর্তমানে স্মার্টফোন কিংবা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ভিড়ে বায়োস্কোপের সেই চল আজ বিলুপ্তপ্রায়। এখন মেলা বা বিশেষ উৎসব ছাড়া এর দেখা মেলা ভার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এই প্রবল দাপটও শিশুর চিরায়ত কৌতূহলের কাছে হার মেনেছে। তাই তো হাতের কাছের ডিজিটাল পর্দা সরিয়ে রেখে ‘জাদুর বাক্সের’ অজানাকে চেনার এই আকুল প্রচেষ্টা। শিশুটির এই অদম্য কৌতূহল যেন আশির দশকের শেষ ভাগে আমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া সেই শৈশবকেই আজ আমার সামনে জীবন্ত করে তুলল।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]