আচ্ছা বাচ্চু ভাই, আপনার কিসের এত তাড়া ছিল বলতে পারেন? গুরুর সঙ্গে দেখা করার একটা আকাঙ্ক্ষা তো ছিলই। কিন্তু সেটা আরেকটু দেরি করে হলে হতো না? তাতে কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত! আমি নিশ্চিত, গুরু নিজেও চাননি আপনি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এত তাড়াতাড়ি পা বাড়ান। প্রথম দেখায় হয়তো স্বভাবসুলভ স্মিত হাসিটা দিয়ে তিনি বলেও ফেলেছেন, ‘কি, বাচ্চু! এত তাড়াহুড়া কইরা না আসলেও তো পারতা!’
আমি বিশ্বাস করতে চাই, আপনি স্বর্গ থেকে মর্ত্যের কিছুই দেখতে পান না। কারণ, এখানে যা ঘটেছে, তা দেখে থাকলে মোটেও সহ্য করতে পারবেন না৷ দুনিয়া থেকে নিয়ে যাওয়া একরাশ অভিমান ও কষ্টের পাল্লাটা কেবল তাতে ভারীই হবে আপনার। তারপরও কিছু কথা আপনাকে না জানিয়েও পারছি না।

জানেন বাচ্চু ভাই, আপনি যেই এলআরবিকে নিজের আরেকটি পরিবার মনে করে পরম যত্নে আগলে রাখতেন, সেই এলআরবি আপনার প্রস্থানের মাত্র এক বছরের মধ্যে ভেঙে গেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, মতানৈক্য এবং একেকজনের ব্যান্ড লিডার হওয়ার মতো নোংরা প্রতিযোগিতায় সব দ্বন্দ্বের শুরু। ফলে যাঁরা সব সময় আপনার ছায়াশরীর হয়ে ছিলেন কিংবা যাঁদের আপনি নিজের ভাইয়ের মতো করে দেখতেন, সেই মাসুদ, রোমেল, শামীম ও স্বপন আজ বিচ্ছিন্ন। এসব আপনি দেখতে পেলে কীভাবে সহ্য করতেন, বলুন!

তখন আপনার আকাশে উড়াল দেওয়ার সবে তিন মাস হয়েছে। জীবদ্দশায় সব সময় ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’-এর যে স্পিরিটটা নিজের মধ্যে লালন করে গিয়েছেন, সে স্পিরিটে উদ্বুদ্ধ হয়েই ব্যান্ডের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এলআরবির বাকি সদস্যরা। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, শুরুতে উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যান্ডের হয়ে গান গাওয়ার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয় রোমেলের কাঁধে। তিনি ড্রামসের পাশাপাশি ভোকাল হিসেবে তখন টানা কয়েকটা অনুষ্ঠানে পারফর্মও করেছিলেন।
আসলে এটা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন একটা সিদ্ধান্ত। ব্যান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভোকাল খুঁজে বের করা। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সে পরিকল্পনা আর ধোপে টেকেনি। তাই সর্বসম্মতিক্রমে রোমেলকেই আপৎকালীন ভোকালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

প্রথম প্রথম সেই পুরোনো উদ্যমে নতুন করে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এলআরবির বাকি সদস্যরা। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতিতে ব্যান্ডটা আক্ষরিক অর্থেই অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। যে কারণে নতুন শুরুর মাত্র মাস ছয়েকের মধ্যে মতপার্থক্যের জেরে ব্যান্ড ত্যাগ করেন শামীম ও মাসুদ। এর কয়েক মাস পর অসদাচরণের অভিযোগে রোমেলকে ব্যান্ড থেকে বহিষ্কার করেন স্বপন। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, কাউকে কিছু না জানিয়ে ‘কনসার্ট ফর নিলুফার’ নামের একটি শোতে রোমেল একাই এলআরবির ব্যানারে পারফর্ম করায় এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমনকি অভদ্র আচরণ এবং এলআরবির গানের ভিডিও কনটেন্ট কোনো রকম অনুমতি (এলআরবি ও আপনার পরিবার) ছাড়া বিদেশে গোপনে নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে আয়ের অভিযোগও এনেছিলেন তিনি রোমেলের বিপক্ষে।

এভাবেই আপনার প্রস্থানের কয়েক মাসের মাথায় আপনার দ্বিতীয় পরিবারটি ভেঙে যায়। একে একে আপনার সেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান ব্যবস্থাপক ও শব্দ প্রকৌশলী শামীম আহমেদ, গিটারিস্ট আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং ড্রামার গোলামুর রহমান রোমেল।

বিভক্তির শুরুটা মূলত ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। তত দিনে ব্যান্ডের ভোকাল হিসেবে বালামকে নিযুক্ত করা হয়ে গেছে। কিন্তু এলআরবির ব্যানারে শো করার ক্ষেত্রে ভাবি, তাজওয়ারসহ আপনার পুরো পরিবারের আপত্তি থাকায় তাঁরা ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখেন বালাম অ্যান্ড দ্য লেগ্যাসি।

আপনার গানগুলা গাওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু আরেকটি ব্যান্ডের নামে, এলআরবির নামে নয়—ব্যাপারটা তখন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি ভক্ত-শ্রোতারা। এমন সময় তাঁদের আবেগ-অনুভূতি এবং প্রবল জনদাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ব্যান্ডটাকে ‘এলআরবি’ নামেই শো করার অনুমতি দিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস শেয়ার করে আপনার ছেলে এবং ব্যান্ডের অন্যতম উত্তরাধিকার আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব। অথচ সেই তখনই কিনা ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে ভাঙনের সূচনা ঘটে!

আসলে এলআরবির নামে পুনর্যাত্রা শুরু করার আগে শামীম ও মাসুদের ইচ্ছা ছিল একটা বিরতিতে যেতে এবং ‘ভয়েস হান্ট’-এর মাধ্যমে নতুন ভোকাল নিয়ে যাত্রা শুরু করতে। অন্যদিকে স্বপন ও রোমেল চাইছিলেন, বালামকে নিয়েই দ্রুত ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করতে। এতে মতের অমিল হওয়ায় ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ান শামীম ও মাসুদ। এর কয়েক মাস পরেই রোমেলকে ব্যান্ড থেকে বিতাড়িত করেন স্বপন, যা ইতিমধ্যে বলে ফেলেছি।

এমন সময় চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় এলআরবির হাল ধরার সিদ্ধান্ত নেন বেজিস্ট সাইদুল হাসান স্বপন। সে লক্ষ্যে পুরো ব্যান্ডটাকে তিনি ঢেলে সাজাতে আরম্ভ করেন। শুরুতে বালামকে অব্যাহতি দিয়ে ভোকাল হিসেবে মিজান রহমানকে মনোনীত করেন তিনি। এরপর ড্রামার হিসেবে অমিত এবং লিড গিটারে নিয়োগ করেন তরুণদের মধ্যে আপনারই অন্যতম পছন্দের গিটারিস্ট পুষ্প ফেরদৌসকে। যদিও পরবর্তী সময়ে স্বপনের ডাকে সাড়া দিয়ে দুই কাঠি হাতে পুনরায় ব্যান্ডে যোগ দেন ড্রামার রিয়াদ সারোয়ার।

এখন একটা কথা আপনাকে কীভাবে যে বলি, ভাবছি। কথাটা শুনে হয়তো আপনি কষ্ট পেতে পারেন। তারপরও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ভোকাল, গিটারিস্ট ও ড্রামারের পাশাপাশি এলআরবিতে তখন কি-বোর্ডিস্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নাম শেখ ইকবাল আহমেদ রনি। আমি শুনেছি, তিনি খুব একটা খারাপ বাজান না। তারপরও এসআই টুটুলের জায়গাটাতে কাউকে কল্পনা করাও তো আপনার জন্য বেদনার। যে কারণে টুটুল ব্যান্ড ছাড়ার পর আর কোনো দিন কোনো কি-বোর্ডিস্টকে নিয়োগ দেননি আপনি।
অবশেষে ব্যান্ড ভাঙা-গড়ার সব খেলার অবসান ঘটে আপনার দ্বিতীয় প্রয়াণদিবসের প্রাক্কালে। তখন এলআরবির নামে যেকোনো কার্যক্রম চালানোতে আবার নিষেধাজ্ঞা আনে আপনার পরিবার। প্রতিনিধি হিসেবে আপনার দুই সন্তান ফাইরুয সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাযওয়ার আইয়ুব জানিয়ে দেয়, এখন থেকে এলআরবির নামে কোনো কার্যক্রম বাংলাদেশ কপিরাইট আইন লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। আর তাদের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানান ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাইদুল হাসান স্বপন।

এমনকি জীবদ্দশায় আপনি যে ২৭২টি গানের কপিরাইট নিজের নামে নিবন্ধন করে যাওয়ার কাজটা প্রায় গুছিয়ে এনেছিলেন, সেই অসমাপ্ত কাজটা আপনার পরিবারের তৎপরতায় সফলতার মুখ দেখে তখন। গানগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় সে সময়। বর্তমানে গানগুলো বাংলাদেশের কপিরাইট অফিসের ওয়েবসাইটে ডিজিটাল আর্কাইভ করে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আইনানুযায়ী এ কপিরাইটের উত্তরাধিকার এখন আপনার স্ত্রী ও দুই সন্তান, যার সুফল ইতিমধ্যে তাঁরা পেতেও শুরু করেছেন।

ও, হ্যাঁ! বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম যে আপনার ধরাধাম ত্যাগের পরপরই একাধিক কনসার্টে আপনাকে স্মরণ করে এলআরবির হয়ে মাসুদ, স্বপন ও রোমেলের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিল আমাদের তাজওয়ার। না, ভুল বুঝবেন না। আপনার দেওয়া ‘আগে পড়ালেখা, পরে মিউজিক’ উপদেশটা সে মোটেও ভুলেনি। আপনিই তো তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার পড়ালেখা আগে, পরে মিউজিক। এটা করে যে তোমাকে খেতে হবে, তা না। তবে পড়ালেখা করে যেদিন মানুষ হবে, সেদিন মিউজিশিয়ান হিসেবে আমি নিজেকে সার্থক মনে করব।’ তাই বাবার কথার মান রাখতে এবং ইচ্ছা পূরণে দুয়েকটা শো করেই পড়ালেখার উদ্দেশে আবার বিদেশে পাড়ি জমায় তাজওয়ার।
বর্তমানে আপনার দুই সন্তানই দেশের বাইরে। আর ভাবি আছেন দেশে। আপনার চলে যাওয়ার পর এবি কিচেনটা ধরে রাখতে ভাবি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সংগত কারণেই সেটা ছয় মাসের বেশি আর অব্যাহত রাখতে পারেননি, তবে আপনার গিটারগুলা যত্নসহকারে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন।

বরাবরের মতোই আপনার পরিবারের পাশে এখনো আছেন মাসুদ। রাতবিরেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সীমাহীন বিশ্বাস ও ভরসায় যাঁকে আপনি সবার আগে ফোন করতেন, সেই মাসুদকেই কপিরাইট আদায়ের যুদ্ধে সর্বক্ষণ পাশে পেয়েছিল আপনার পরিবার।

তা ছাড়া জীবদ্দশায় এ দেশে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় করাতে সহকর্মীদের নিয়ে যে যুদ্ধটা আপনি করে গিয়েছিলেন, তাতে এখনো বিজয় আসেনি। বাংলাদেশে এখনো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি শক্ত পায়ে দাঁড়াতে পারেনি। এখনো শেষ বয়সে অর্থের অভাবে আমাদের শিল্পীদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এখনো এ দেশে কাউকে ইনস্ট্রুমেন্টাল অ্যালবাম তো দূরে থাক, সিঙ্গেল ইনস্ট্রুমেন্টাল বের করতেও কয়েক শ বার ভাবতে হয়।

তবে আশার কথা কী জানেন বাচ্চু ভাই, এখনো এ দেশে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো মিউজিশিয়ান আছেন। ইন্ডাস্ট্রি না থাকা সত্ত্বেও আমাদের তরুণেরা সংগীতকে পেশা হিসেবে লুফে নিচ্ছেন। এখানে ক্যারিয়ার গঠনে ঝুঁকি আছে জেনেও স্রেফ ভালোবাসার জায়গা থেকে তাঁরা সানন্দে ব্যান্ড গঠন করছেন।

আপনি জেনে আরও খুশি হবেন, আপনার প্রিয় বাংলাদেশ আপনাকে ভোলেনি। অগণিত ভক্ত-শ্রোতা এখনো নিয়মিতই আপনার গানগুলো শুনে থাকেন। জীবদ্দশায় আপনি বারবার বলতেন, ‘আমি গান গেয়ে বাংলাদেশকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’ বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, আপনি না থাকার পরও বাংলাদেশ ঠিকই জেগে আছে আপনার গানে। আমরা জেগে থাকি আপনার গান শুনে। বিনিদ্র রজনী কাটাই আপনার ছয় তারের জাদুতে মোহাবিষ্ট হয়ে।

আপনার চাওয়া অনুযায়ী প্রায় আট বছর আগে যাত্রা শুরু করা ব্যান্ড ফেস্ট এখনো প্রতি বছরের ১ ডিসেম্বর চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে আয়োজন করা হচ্ছে। যদিও গত বছর অনিবার্য কারণবশত ব্যান্ড ফেস্ট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু ‘ফিরে দেখা ব্যান্ড ফেস্ট’ নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোর আয়োজন এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর টুকিটাকি তুলে ধরা হয়েছিল।

সেই সঙ্গে আপনার নিজ শহর চট্টগ্রামও আপনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে বিশেষভাবে। আপনার নাম ও কীর্তিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নতুন করে প্রবর্তক মোড়ের নামকরণ করেছে আইয়ুব বাচ্চু চত্বর। শুধু তা-ই নয়, সেখানে বসানো হয়েছে ১৮ ফুট উচ্চতার একটি প্রতীকী রুপালি গিটারও।
এদিকে জেমস ভাইয়ের কথাই-বা না বলে থাকি কী করে! বাইরে থেকে জেমস ভাইকে সাধারণত একজন শক্ত মানুষ হিসেবেই আমরা জানি। আবেগটাবেগ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না বলে বিশ্বাস করি। অথচ চার বছর আগের অশুভ দিনটাতে সেই জেমস ভাই বরগুনার একটি কনসার্টে বাজাতে গিয়ে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। জেমস ভাইয়ের মতো মানসিকভাবে শক্ত-সামর্থ্যবান একজন মানুষ পর্যন্ত নিজের আবেগকে সংবরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন সেদিন। এই ভালোবাসা কেবল একজনের জন্যই ছিল। শুধুই আপনার জন্য, বাচ্চু ভাই।

এ মুহূর্তে যে কথাটা বলব, তা শুনে একটু অবাক হতে পারেন। আপনি কিন্তু আমার জীবনের একটা বড় আক্ষেপের সঙ্গেও জড়িয়ে আছেন, বাচ্চু ভাই। আপনি যখন নীরবে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন, তখন সেমিস্টার শেষের বিরতি কাটাতে আমার অবস্থান বাড়িতে। তাই শেষবারের মতো অঢেল মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে আপনাকে শ্রদ্ধা জানাতে না পারার আক্ষেপটা আমার কোনো দিনও ঘুচবে না।

এখনো ইউটিউবে প্রায়ই আপনার শেষ দিকের কনসার্টগুলো সামনে চলে আসে। সেগুলোতে চোখও রাখি, কিন্তু নিজের শোকাবেগকে ঠিক সামলাতে পারি না। ফুসফুসে পানি জমায় হাই স্কেলে টান দিতে আপনার যে কষ্ট দৃশ্যমান হতো, তা দেখে কীভাবে ঠিক থাকি বলুন তো!

অনেক বকবক করলাম। লিখতে লিখতে কখন যে এত কিছু লিখে ফেললাম, টেরই পেলাম না। দৈর্ঘ্যে বড় হওয়ায় চিঠিটা হয়তো আপনাকে বিরক্ত করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আপনি এক নিশ্বাসেই পুরোটা পড়ে ফেলবেন।

আর বেশিক্ষণ সময় নেব না। স্বর্গে নিশ্চয়ই গুরুর সঙ্গে জম্পেশ আড্ডা মারছেন। গুরুও নিশ্চিতভাবে দেখা হলেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আপনাকে বুকে টেনে নিচ্ছেন, গল্প করছেন।
আচ্ছা, গুরুকে নিয়ে লেখা গানটা কি গেয়ে শুনিয়েছেন? নিশ্চয় গেয়েছেন—
‘ঝাঁকড়া চুলের মানুষটা
লম্বা লম্বা দাড়িটা
শার্টের বোতাম খোলা তার
লম্বা লম্বা দেখতে সে
গাইছে গান, সাদা-কালো টিভিতে
গাইছে গান, আজম খান।’
গানটা শুনে গুরুও নিশ্চয় লজ্জামাখা হাসিতে বলে উঠেছেন, ‘ধুর! কি যে করো না তুমি, বাচ্চু!’
এভাবেই তবে চলতে থাকুক। আপনি ভালো থাকুন। আপনারা ভালো থাকুন। চাওয়া কেবল এতটুকুই।