চা শ্রমিকদের সংস্কৃতি

চা বাগানে কাজ করছেন এক শ্রমিকছবি: প্রথম আলো

চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে উঠতে কখনও বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, কখনও বা রাজনৈতিক আলাপ সবই আজ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। প্রচন্ড গরমেও চা না খেলে অনেকের চলেই না। চা পানেও লেগেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। নামি-দামি রেস্তোরাঁয় পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের চা দামও তার আকাশ চুম্বি। যে চা দিয়ে আমরা আভিজাত্যের সংস্কৃতি পালন করি কখনও কি চিন্তা করে দেখেছি সেই চা শ্রমিকদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি কেমন? 

চা-শ্রমিকদের মাঝে বহুত্ববাদী ধর্মীয় পরিবেশ বিদ্যমান। হিন্দু শ্রমিকরা যেখানে পালন করে তাদের হিন্দু ধর্মীয় উৎসব যেমন- দূর্গা পূজা, শ্যামা পূজা, সরস্বতি পূজাসহ অন্যান্য উৎসব। তেমনি মুসলিম শ্রমিকেরা পালন করেন ঈদ। ধর্মীয় উৎসব পালনের পাশাপাশি সিলেটে চা শ্রমিকের নিজস্ব সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত ঝুমুর নাচ বা ঝুমুর গান। ঝুমুর নাচ ও গান হয় সাধারণত করম পূজাকে কেন্দ্র করে। চা শ্রমিকরা নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য এই পূজার আয়োজন করে থাকেন। চা- শ্রমিকরা বিয়েতেও ঝুমুর গানের আয়োজন করে থাকেন। বিয়েতে তারা পালন করেন “পান-সুপারি” রীতি নামে একটা সংস্কৃতি যেখানে বিয়ের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পান সুপারি দেওয়া হয়। তাছাড়া পালিত হয় “কন্যামূল্য” নামে এক রীতি যেখানে বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে পোশাক, অলঙ্কার ও প্রয়োজনীয় জিনিস প্রদান করেন যা আমাদের প্রচলিত যৌতুক প্রথার বিপরীত। চা-শ্রমিকরা জানান তারা “মরা মৌসুমে” (শুষ্ক বা কাজের চাপ কম থাকে এমন মৌসুমে) তাদের অনুষ্ঠান বেশি পালন করেন। চা-শ্রমিকরা কথা বলেন তাদের আঞ্চলিক ভাষায়।

চা-শ্রমিকেরা সাধারণত চান তাদের পরবর্তী প্রজন্মে তাদের সংস্কৃতি বজায় থাকুক। তাই বিয়েও হয় নিজেদের গোত্রের মধ্যে। তবে চা-শ্রমিকদের সংস্কৃতিতে লেগেছে সূক্ষ্ম আধুনিকতার ছোঁয়া। চা-বাগানগুলোতে পর্যটকের আগমন তাদের সাথে পারস্পরিক কথাবার্তা থেকে ভাষায় এসেছে পরিবর্তন। শুদ্ধ বাংলা বলার পাশাপাশি অনেকে কথা বলতে পারেন টুকটাক ইংরেজিতে ও। মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহারে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারে অন্যদের সংস্কৃতি সম্পর্কে এমকি অন্য গোত্রে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়ছে তাই ঘটছে সংস্কৃতির সংমিশ্রণ। এতকিছুর মাঝেও চা শ্রমিকেরা তাদের সংস্কৃতি তারা পালন করছে। এই সংস্কৃতির ধারা বজায় থাকুক যুগ যুগ ধরে।