দেশের কথা ভাবলেই মন ভারী হয়ে যায়। আমাদের দেশে আমরা দেখতে পাই নদী ভাঙছে, বন্যা হচ্ছে, বন কেটে ফেলা হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে—সবই চিন্তার বিষয়। আমরা চাই দেশটা ভালো হোক, মানুষ সুখে থাকুক। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমাদের হাতে বড় পয়সা বা ক্ষমতা সব সময় থাকে না। তখন মনে হয়, ‘আমি একা কী করতে পারি?’ তবে এর উত্তর খুব সহজ—গাছ লাগানো।
গাছ লাগানো কঠিন কোনো কাজ নয়, তবে এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। গাছ অক্সিজেন দেয়, বাতাস পরিষ্কার রাখে, চারপাশকে শান্ত করে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর ধারে গাছ লাগালে নদীভাঙনও কমে। শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে, জলের ঝাপটা সামলায়। এই ছোট কাজ অনেক পরিবারকে বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। তাই মনে হয়, এটা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।
সবজি ও ফলের গাছ লাগানো দরকার। বাড়ির উঠোনে, খালি জমিতে, রাস্তার ধারে আমরা লাউ, কুমড়া, শিম ও পুঁইশাক লাগাতে পারি। বড় গাছ থেকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা পাওয়া যায়। আমলকী, বহেরা, হরীতকী এসবও পাওয়া যায়। এগুলো খেলে পরিবার পুষ্টিকর খাবার পাবে, বাজারে কম যেতে হবে। বড় গাছের কাঠও ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। দেশে অনেক ফাঁকা জায়গা আছে, চর, নদীর পাড়, খাল—সেগুলো ব্যবহার করে গাছ লাগানো সম্ভব। ধীরে ধীরে দেশ সবুজ হয়ে উঠবে।
দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বনভূমি দিনে দিনে কমছে। কারখানা, শিল্পকেন্দ্র, বাড়ি নির্মাণের জন্য বন কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ছে, অক্সিজেন কমছে। তাপমাত্রা বাড়ছে, মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের জল বাড়ছে। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা বেড়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
গাছ লাগালে এসব ক্ষতি অনেকাংশে রোধ করা যায়। একটি বড় গাছ বছরে প্রায় ২৬০ পাউন্ড অক্সিজেন দেয়। এটা ১০ থেকে ১২ জন মানুষের দৈনন্দিন শ্বাসের জন্য যথেষ্ট। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি গাছ তার পুরো জীবনকালে প্রায় এক টন কার্বন শোষণ করতে পারে। শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে, বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষতি কমায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রাখার জন্য কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বন থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসাবে বনভূমি মাত্র ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তাই গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
অনেকে বলেন শুধু পরিবেশ দিবসে গাছ লাগাব, কিন্তু গাছ লাগানো উচিত সব সময়। কেউ কেউ মনে করেন আমাদের দেশে গাছ লাগানোর ‘জায়গা নেই’, অথচ রাস্তা, মহাসড়ক, রেললাইন, খালি জমি—সব জায়গায় গাছ লাগানো সম্ভব। সবজি ও ফলের গাছ লাগালে খাবার, কাঠ, পরিবেশ—সবই পাওয়া যাবে। এটি মনে রাখা খুব জরুরি।
অনেকেই ভাবেন, ‘একটা গাছ লাগালে কী হবে?’ কিন্তু বড় পরিবর্তন সব সময় একজন মানুষ থেকে শুরু হয়। আজ আপনি একটি গাছ লাগান, কাল অন্যরা দেখে অনুপ্রাণিত হবেন। ধীরে ধীরে দেশ সবুজ হয়ে উঠবে। বড় কিছু করতে বড় পয়সার দরকার নেই। একটি গাছ লাগানোই সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে কার্যকর ও সবচেয়ে বাস্তব উপায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—যদি একটি গাছ কাটা হয়, তাহলে দুটি গাছ লাগানো উচিত। এভাবে আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টা একসঙ্গে মিললেই দেশ দ্রুত সবুজে ভরে উঠবে।
চলুন, আজই সিদ্ধান্ত নিন—গাছ লাগানোই হোক দেশের জন্য আমাদের প্রথম কাজ।
* লেখক: মিথুন শিকদার, শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নাগরিক সংবাদ-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]