বিজ্ঞাপন

তখন মামাবাড়িতে টিভি দেখতে দেখতে খেয়াল থাকত না রাত কয়টা বাজে। ঘর থেকে দূরে একটা টর্চলাইটের আলো দেখা যেত। টর্চের আলো দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে টিভি দেখা জন কুড়ি মানুষ কে কোনো দিক দিয়ে পালিয়েছে ঠিক নেই। মুহূর্তের মধ্যে ঘর খালি হয়ে যেত যত স্বাদের অনুষ্ঠানই হোক। বুঝতে দেরি হতো না যে নানা আসছেন ঘরের দিকে। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নানা মামাদের গ্রামের চায়ের দোকানে বসে বসে পঞ্চায়েত কমিটির সঙ্গে গ্রামের বিচার–আচার শেষ করে ঘরে ফিরতেন। দেখতাম বাড়ির সবাই নানাকে ভীষণ ভয় পেতেন। নানা যদি বলতেন ওঠো, সবাই উঠে যেতেন, যদি বলতেন বসো সবাই বসে যেতেন। সবাই খুব সম্মান করতেন। আর আজ নানা না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন ৮ বছর হয়ে গেল। আচ্ছা, মামাবাড়ির সেই মানুষগুলো কি নানাকে এখন মিস করেন? নানার শূন্যতা অনুভব করেন?

এভাবেই সময় কেটে যায়, পালাবদল হতে থাকে ঋতুর। আমি–আমরাও বড় হতে থাকি। বড় হতে হতে আমরা হারিয়ে ফেলি আমাদের শৈশব–কৈশোর। হারিয়ে ফেলি সেই রাতের বেলা উঠানে শুয়ে শুয়ে কালো আকাশে শুভ্র চাঁদ, তারা দেখার দিনগুলো। হারিয়ে ফেলি মেঝেতে বসে সাদা–কালো টিভিতে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখার সময়টা। হারিয়ে ফেলি প্রিয় মানুষগুলো। বড় হতে হতে অনুভব করি শৈশবটা সুন্দর ছিল। শৈশবের বায়নাগুলো ছোট্ট ছিল, তবে শান্তি ছিল বেশ। হারিয়ে ফেলা প্রিয় শৈশব হয়ে রয় স্মৃতি রোমন্থন।

*লেখক: শিক্ষার্থী

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন