বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড়ে বেড়িবাঁধ ভাঙার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উপকূলীয় বাঁধগুলোর নকশা ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সালের। সমতল থেকে বাঁধগুলোর উচ্চতা ১০ ফুট। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আইলা বা আম্পানের সময় ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ছিল। ক্ষেত্রবিশেষ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা এর থেকেও বেশি থাকে। এ কারণে বাঁধগুলো শতভাগ পানি আটকাতে পারছে না। এ ছাড়া চিংড়িঘেরে পানি প্রবেশ করাতে গিয়ে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে অভাবে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

default-image

অন্যদিকে, নির্বাচনের সময় স্থানীয় নেতারা বাঁধের প্রতিশ্রুতি দেন, অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা বরাদ্দ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ তৈরি করে। ঠিকাদার সবাইকে খুশি করে তাঁর প্রাপ্য বুঝে নেন। তারপর দেখা যায় বাঁধ আর নেই। প্রমত্ত নদীর আঘাতে তা তলিয়ে গেছে। এত কিছুর পরও উপকূলবাসী প্রতিটি দুর্যোগের পরে আবার উঠে দাঁড়ায়, আবার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। দুর্যোগপরবর্তী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে হবে, গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়, তবে এসব গবেষণাপত্র দিয়ে অনেকের অনেক স্বার্থ হাসিল হলেও উপকূলবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন হবে না, এ যেন নির্মম সত্য।

default-image

বস্তুত, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার এ বেহাল দশার দায় কেউই এড়াতে পারে না। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী উপকূলীয় এলাকার মানুষের গগনবিদারী আর্তনাদ কি দেবালয়ে পৌঁছায়? নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
সবকিছু দেখেও যেন দেখার কেউ নেই। আসছে ঘূর্ণিঝড়ের আগে উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করা হোক। ত্রাণ নয়, উপকূল রক্ষায় টেকসই বাঁধ চাই।

*লেখক: খালিদ সোহরাওয়ার্দী, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন