বিজ্ঞাপন

গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখেছি, অনেক বিবেকবান শিক্ষক বাড়ি বাড়ি ঘুরে খোঁজখবর রাখছেন তাঁদের শিক্ষার্থীদের। বিশেষত গ্রামের অনেক স্কুল-কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষকেরা মিলে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাড়ায় পাড়ায় পড়াশোনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই শিখে নিচ্ছেন অনলাইনে যুক্ত থাকার ও যুক্ত রাখার কৌশল। খুঁজে বের করছেন নিত্যনতুন পথ। ‘কন্টিনিউয়াস লার্নিং’ দর্শনে তাঁরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করেও আমাদের অনেকের চেয়ে ভালো কাজ করেছেন শুধু আন্তরিকতার জোরে। ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। অনেক নগর-আধুনিক বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, যাঁরা জাতিকে দুর্যোগে পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের থাকতে দেখেছি নিশ্চুপ ও নির্বিকার। বিশেষ করে যাঁদের বেতন-ভাতা ঘরে বসে কিছু না করেও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাঁদের জন্যও নতুন ভাবনার খোরাক নিয়ে এসেছে সময়। সময় কাকে কখন কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে, তা কে জানে?

কোনো পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিয়েও প্রযুক্তির সহায়তায় সংসার চালানোর উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে যে দেশে, সে দেশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দূরে থাকার এই একাকিত্ব একদিন কষ্ট দেবে আমাদের। এই দুর্বিপাকের মধ্যে জীবনের অনেক প্রাপ্তি রয়েছে। সে তুলনায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে, সন্তানদের সামনে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। যথাযথ যত্ন না পেলে চিরচেনা শান্ত শিক্ষার্থীটিও হয়ে উঠতে পারে অযৌক্তিক। নিজের দিকে খেয়াল না রাখলে আপনি-আমিও কারণে বা অকারণে বদলে যেতে পারি। যত্ন নেওয়া এখন খুব প্রয়োজন। এই অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণে অনেক ত্রুটি ঘটতে পারে। গভীর ভালোবাসা দিয়ে, উপলব্ধি দিয়ে বুঝতে হবে তাদের।

আমাদের এই ভূখণ্ডের হাজার বছরের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের কাছে সব মানসিক চাপের ফলাফল পরাজিত হবে পারস্পরিক ভালোবাসায়। এখানে নারী-পুরুষনির্বিশেষে পরম মমতায় শিক্ষা নিতেন গুরুর কাছ থেকে। সব প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এ ভূখণ্ডের প্রাণপুরুষেরা আলো ছড়িয়েছিলেন, যখন পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ও অঞ্চল শিক্ষার আলো থেকে দূরে ছিল। কাজেই পূর্ণ সহিষ্ণুতা দিয়ে আগলে রাখতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎকে, ভবিষ্যতের প্রজন্মকে। ঘরের ও পরের সন্তান বলে কিছু নেই আদতে।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন