default-image

শমসেরনগরে ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে এসেছেন ১৭ দেশের ৩০ জন বিদেশিসহ প্রায় ৭০০ দৌড়বিদ। এখানে পৌঁছে যে বিষয়টি সবার আলোচনার বিষয়, কাল সকালে ঠান্ডা কেমন পড়বে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসারে চা–বাগান পরিবেষ্টিত শমশেরনগরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামবে। কথা হচ্ছিল ঠাকুরগাঁ থেকে আসা ইতির সঙ্গে। তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে গত বছর ১০০ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়েছেন। দুদিন আগে ঢাকায় পৌঁছে আজ শমশেরনগরে এসেছেন।

ম্যারাথনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শমসেরনগর চা–বাগান মাঠে তাঁবু তৈরি করে রাত্রি যাপন করবেন। আশপাশে খোলা মাঠে আরও অনেকেই তাঁবুতে রাত কাটাবেন। অন্য কোনো জায়গা থেকে ভোরে এখানে পৌঁছাতে অসুবিধা যেন না হয়, তাই এ ব্যবস্থা।

শমসেরনগরের আল্ট্রা ম্যারাথন খবরটি চাউর হওয়ার পর থেকে আশপাশের হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই শমসেরনগর কমলগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। কাছাকাছি এতগুলো পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। কোনো কিছুই আটকে রাখতে পারেনি এ ম্যারাথন।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের একজন নবীল শমশেরি। তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি ব্যস্ত। বারবার মোবাইলে সিলেটি ভাষায় দৌড়ের ভেন্যুর ঠিকানা দিচ্ছেন। কী আলাপ করব তোমার সঙ্গে? কতজন দৌড়াচ্ছে, কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, কী কী সুবিধা। এগুলো তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম, তিরিশের এই যুবক বা তাঁর মতো আরও কয়েকজন প্রতিবেশী কমলগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে বসে এত বড় একটি আয়োজন করার সাহস দেখিয়েছেন। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, কয়েকজন বন্ধু পিকনিক করতে গিয়ে আলোচনার সূত্রপাত। এর আগে একটি ছোট ম্যারাথনের অভিজ্ঞতা। এসব মিলিয়ে মনে হলো তাঁরা একটা আয়োজন করতেই পারেন।

default-image

ম্যারাথনের ভেন্যু থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে আমাদের থাকার জায়গা মিলেছে। ঢাকা থেকে আমরা যে চারজন এক গাড়িতে এলাম, তাদের তিনজনই আগে কয়েকটি আল্ট্রা ম্যারাথনে যোগ দিয়েছেন। ভেন্যুতে পৌঁছে তাদের মুখভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। নিজেদের মাটিতে তাদের ভালো লাগছিল।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পথে পানি এবং হালকা নাশতার ব্যবস্থা থাকছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য থাকছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স। ১৭৩ জন ৫০ কিলোমিটার দৌড়াবেন। ২৬৫ জন হাফ ম্যারাথন, ১৮৬ জন ১০ কিলোমিটার।

ঢাকা থেকে দৌড়ে অংশ নিতে এসেছেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান। তিনি সঙ্গে এনেছেন স্ত্রী খালিদা জামান ও ছেলেকে। এমন একটি উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। বিকেল থেকে অংশগ্রহণকারীরা একে একে সমবেত হচ্ছেন। পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।

এখানে ঢাকা থেকে অনেকেই এসেছেন। সবাই ঘুরেফিরে সুস্থভাবে ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করার কথাই বলছেন। আশা করা যাচ্ছে, এ ধরনের আয়োজনের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। এতে সব প্রজন্মের মানুষ গঠনমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ হবে।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন