বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুহাম্মদ সামাদ আরও বলেন, সহজ ভাষায় বলতে গেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতি ও বিচার–ক্ষমতায় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীদের অবস্থান লক্ষণীয়। আর নারীরা নিজের মেধায় তা অর্জন করে নিচ্ছেন।

গ্লোবাল টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই আমাদের সবকিছু নির্ভর করে। তাদের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। রাজনৈতিক দল হিসেবে কেবল আওয়ামী লীগেই সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ নারী সাংসদ রয়েছেন। আমরা এত কিছু করলাম, কিন্তু উত্তরাধিকার আইন করতে গিয়ে ধর্মকে সামনে এনে আটকে দেওয়া হলো। এটাতে হয়তো রাজনৈতির কোথাও না কোথাও কোনো একটা অঙ্গীকার আছে। অথবা কোনো একটা আপস আছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, ‘আজকে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হলেও এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তবে এই বৈষম্য দূরীকরণে শুধু আইন নয়, এর প্রয়োগও করতে হবে। তা ছাড়া আমাদের মনোজগতেরও পরিবর্তন করতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক জাহানারা আরজু বলেন, ‘বৈষম্য দূরীকরণে শক্তিশালী লিঙ্গনীতি প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও এখনো তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি আইনজীবী কোহেলী কুদ্দুস বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। সমাজে নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। সমাজ উন্নয়নে নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সমাজের সবার মেধা ও শ্রম উৎসর্গ করতে হবে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও সমাজকর্মী ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ। তিনি বলেন, সমাজ কর্তৃক কাজ, পোশাক, প্রথাগত আচরণ, চালচলন এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধ দ্বারা বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিভাজনরেখা সৃষ্টি করে দেওয়ার নাম লিঙ্গবৈষম্য। নানা সময়ে এ বৈষম্যের মুখোমুখি হন নারীরা এবং এই বৈষম্য নারীদের ক্ষমতায়নের পথে প্রধান অন্তরায়। নারীর ক্ষমতায়ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক অবকাঠামোয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি মাধ্যম বা উপায়, যার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে প্রকাশ করতে পারেন এবং নিজেদের অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হতে পারেন।
ডা. ফেরদৌস আহমেদ খন্দকার বলেন, ‘বাংলাদেশে কন্যাশিশুর জন্ম হলে মা–বাবার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। আমাদের দেশে একটা কন্যাসন্তান যখন নবম-দশম শ্রেণিতে ওঠে, তখনই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা একই সঙ্গে বেড়ে ওঠে, যা আমাদের দেশে দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে পারি, তাহলে এই সমস্যা থাকবে না।’

এক্সবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক জাহানারা আরজু বলেন, ‘বৈষম্য দূরীকরণে শক্তিশালী লিঙ্গনীতি প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও এখনো তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি আইনজীবী কোহেলী কুদ্দুস বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। সমাজে নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। সমাজ উন্নয়নে নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সমাজের সবার মেধা ও শ্রম উৎসর্গ করতে হবে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও সমাজকর্মী ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ। তিনি বলেন, সমাজ কর্তৃক কাজ, পোশাক, প্রথাগত আচরণ, চালচলন এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধ দ্বারা বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিভাজনরেখা সৃষ্টি করে দেওয়ার নাম লিঙ্গবৈষম্য। নানা সময়ে এ বৈষম্যের মুখোমুখি হন নারীরা এবং এই বৈষম্য নারীদের ক্ষমতায়নের পথে প্রধান অন্তরায়। নারীর ক্ষমতায়ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক অবকাঠামোয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি মাধ্যম বা উপায়, যার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে প্রকাশ করতে পারেন এবং নিজেদের অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হতে পারেন।
ডা. ফেরদৌস আহমেদ খন্দকার বলেন, ‘বাংলাদেশে কন্যাশিশুর জন্ম হলে মা–বাবার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। আমাদের দেশে একটা কন্যাসন্তান যখন নবম-দশম শ্রেণিতে ওঠে, তখনই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা একই সঙ্গে বেড়ে ওঠে, যা আমাদের দেশে দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে পারি, তাহলে এই সমস্যা থাকবে না।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এম এম মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব। আমাদের দেশের লিঙ্গসমতায় তিন ধরনের সফলতা রয়েছে বলে আমি মনে করি। রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষাক্ষেত্র ও হিউম্যান এমপ্লয়মেন্টে সফলতার কথা বলা যায়। দক্ষিণ এশিয়াতে লিঙ্গসমতায় আমাদের সফলতার পেছনে এই তিনটাই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।’

সাদা-কালো হিজড়া উন্নয়ন সংঘের সভাপতি অনন্যা বণিক বলেন, ‘আমরা অনেকটা সময় পেছনে ফেলে এসেছি। বহু কঠিন সময় পার করে এসেছি, যে সময়ে আমাদের লিঙ্গের কোনো স্বীকৃতি ছিল না, ভোটাধিকার ছিল না। আজকে আমরা লিঙ্গের স্বীকৃতি পেয়েছি, ভোটাধিকার পেয়েছি, সরকারি চাকরির অধিকার পেয়েছি। আমরা এখন দেশের জন্য কাজ করতে পারছি।’

সভাপতির বক্তব্যে বিবার্তা ২৪ ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন বলেন, ‘এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার নারী, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোয় নারীদের অবস্থান কতটুকু? শুধু মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছাড়া নারী নেতৃত্ব আমরা সেভাবে দেখি না। তা ছাড়া, প্রায় জায়গায় সংরক্ষিত নারী কোটা দেখা যায়। অনেক যোগ্য নারী আছেন, যাঁদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শুধু নারী হওয়ার কারণে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।’
বিবার্তা ২৪ ডটনেটের সাহিত্য সম্পাদক সামিনা বিপাশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা জার্নালের প্রকাশক ও সম্পাদক হাবিবুর রহমান রোমেল, গৌরব ৭১–এর সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন