পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে
পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রেফাইল ছবি: জগলুল পাশা

চলতি বছরের করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আট মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা ব্যাহত হয়েছে। যার দরুন সরকার এখন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া লটারিতে শিক্ষার্থীদের নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক গতিশীলতা চলমান থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।

এখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়টি জোর দেওয়া হলেও এভাবে পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণির পড়ায় হয়তো কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে আগে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ায় কিছুটা বৈষম্য হতো শিক্ষার্থীদের প্রতি।

কারণ, এতে কেবল ভালো মেধাবী শিক্ষার্থীরাই একটি নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত, তবে এবার লটারির পরীক্ষায় পড়ুয়া মেধাবী ও কম মেধাবী সব শিক্ষার্থীই একসঙ্গে ভর্তি হতে পারবে যেকোনো বিদ্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষায় বৈষম্য দূর হবে, যা শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। অপর দিকে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির ফরম বিক্রি করা হলে অনেক প্রান্তিক শিক্ষার্থীর জন্য তা কষ্টসাধ্য ও দুর্বোধ্য হবে, তারা একে ঝামেলাপূর্ণ মনে করে স্কুলে ভর্তির আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। তবে বর্তমানের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্তটি বেশ কার্যকর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটি সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


*শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন