বিজ্ঞাপন

কয় দিন ধরে রাইতে ঝড়–তুফান হওয়ার ল্যাইগ্গা কারেন্ট আয় না। কারেন্ট না আইলে রিকশা চার্জ অয় না। চার্জ না অইলে চালাইতাম ক্যামনে?
-আহ এ যে দেখছি তোমার ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

-ভাই, কয় দিন থ্যাইক্কা মনডা খুবই খারাপ। বাচ্চা দুইডা ঘরে গেলেই বস্তু (বিস্কুট) খাইবার চায়। খুব করে ধরে। কয় বাবা বস্তু আনছ। বস্তু দেও। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাইলে কষ্টে বুকটা চৌচির হইয়া যায়।

-তাই আজ ধান কাটতে আসছ?
রফিক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উত্তর দেয়, এ ছাড়া করতাম কী? সরকার তো আমাদের জন্য কিচ্ছু করে না। আমি ধান কাটায় খুব বেশি সুবিদে করতাম পারি না। জন্মের পর থ্যাইক্কা এই এক কাম, রিকশা চালানো ছাড়া আর কিচ্ছুই ভালা কইরা পারি না। এহন বাধ্য হয়েই ধান কাটছি কয়ডা ট্যাহার আশায়।

-প্রতিদিন তোমার রিকশা চালিয়ে কত আয় হতো?
-এইডার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। একেক দিন একেক রকম। কোনো দিন ৫০০, কোনো দিন ৬০০ আবার কোনো দিন বেশিও অইত।

-আর এখন ধান কেটে প্রতিদিন কত পাবে?
-৭০০ ট্যাহার মতো। কিন্তু ধান কাটা যেমন তেমন এই গরমে মাথায় করে বুঝা টানাডা খুব কষ্টের। জীবনডা বাইর হইয়া যায় গরমে!
-আমার হইল মরণ! সমস্যা একটার পর একটা ল্যাইগ্গাই আছে। রিকশার ব্যাটারিতে চার্জ থ্যাহে না। একটু চালাইলেই চার্জ শেষ! ব্যাটারি বদলাইতে অইব।

-কত লাগে?
-সে তো ম্যালা? এই ধরেন, ৪০ থেকে ৪৪ হাজার ট্যাহা।

-এত লাগে?
-হ ভাই।
-এত টাকা কই পাবে?
-এইডাই তো চিন্তা করছি, এত ট্যাহা পাইতাম কই?
-আমি যদি তোমাকে কিছু টাকা ধার দিই, তবে কি ব্যাটারি কিনতে পারবা? পরে না হয় আমাকে আস্তে আস্তে ধারের টাকাটা পরিশোধ করে দিলা।
-তাইলে তো ভালোই অয়। কিন্তু বাকি ট্যাহা ক্যামনে জোগাড় করতাম?
রফিকের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়ে আমি বিদায় নিলাম। কিন্তু মোদ্দাকথা হলো, লকডাউনে যারা নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, তারা এখন যাবে কোথায়, করবেটা কী, খাবেটা কী? সরকার তো এদের জন্য কোনো রকম ভর্তুকি বা অন্য কোনো সাহায্যের ব্যবস্থা করছে না। দেশের আপামর জনসাধারণের রয়েছে বহুবিধ সমস্যা। বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম চলাতে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কোনো রকম জীবন ধারণের তাগিদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে। কিন্তু সে সংখ্যাটাও সীমিত। সারা দেশের চিত্রটা ভিন্ন ও ভয়ংকর। শহর থেকে অনেক মানুষ এখন গ্রামে চলে আসছে। তারা এখন কর্মহীন। শহর ও গ্রামে লাখ লাখ মানুষ বেকার বসে আছে। এসব কেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের উচ্চবিত্তদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমজীবী মানুষদের বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ বাঁচলে আমাদের অর্থনীতি বাঁচবে এবং দেশ বাঁচবে। তাই আসুন মানবতার কল্যাণে—
সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিই
দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াই,
লেখক: মো. মাহাবুবুর রহমান, উদ্যোক্তা।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন