বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের জিয়া সরকারও এটাকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত করার সুবর্ণ সুযোগ মনে করে। এমনকি গোপনে জিমি কার্টারের অনুমতিও লাভ করে। সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদ বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে থাকে। আইএসআই এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। মুসলিম বিশ্বে আফগানে সোভিয়েতবিরোধী জনমত গঠন করার কাজও করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সরাসরি মুজাহিদ বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য রাজি হয়ে যায়।

এমনকি চীনকেও কৌশলে বাগে এনে সোভিয়েত বাহিনীকে মুজাহিদ বাহিনী দিয়ে কোণঠাসা করে যুক্তরাষ্ট্র। এত সব কৌশল ও ফন্দি আঁটে সিআইএর প্রধানের কথা অনুযায়ী। কারণ, সিআইএর প্রধান বলেছিলেন, ভিয়েতনামের মতো ভুল তাঁরা আফগানে করতে চান না। তাই কৌশলে নিজেদের সরাসরি উপস্থিতি বাদ দিয়ে মুজাহিদ বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জিয়াউল হকও সুযোগ বুঝে নিজদের স্বার্থ হাসিল করে নেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সাহায্য করতে চাইলে জিয়া বলেছিলেন, এটা যথেষ্ট নয়। যেহেতু জিয়াকে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন, তাই সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছিল। সোভিয়েতের বিরুদ্ধে মুজাহিদ বাহিনী দিয়ে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ও আক্রমণ করাতে পেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল, যতভাবে পারা যায় সোভিয়েতকে ক্ষয়িষ্ণু করা।

সামরিক, আর্থিক, মানসিক—সবদিক দিয়ে সোভিয়েতকে ক্লান্ত বানিয়ে ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে সোভিয়েত সৈন্য প্রবেশ করানোর মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ আরম্ভ হয়, আর ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান থেকে সর্বশেষ সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। সোভিয়েত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সঙ্গে সে যুদ্ধে ৬ থেকে ২০ লাখ আফগান প্রাণ হারায়, যাদের অধিকাংশই ছিল বেসামরিক নাগরিক।

সম্প্রতি ইউক্রেন ইস্যুতেও তৎকালীন আফগানে যে কৌশল গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেটিই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল টার্গেট রাশিয়াকে ক্ষয়িষ্ণু করা। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সমস্যায় ইউক্রেন বলির পাঁঠামাত্র। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করে রাশিয়াকে মাঠে নামালেও ইউক্রেনে কোনো সৈন্য পাঠিয়ে তাদের মোকাবিলা করছে না। যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক, সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতি হোক, এটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে একক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে যেকোনো কৌশল গ্রহণ করে। এমনও হতে পারে, রাশিয়ার অবস্থা যখন আরও দুর্বল হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোট মিলিয়ে সশস্ত্র আক্রমণ করবে রাশিয়ার ওপর।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পাকা খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র। আমরা জানি, সামরিক শক্তিতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা ওপরে থাকলেও অর্থনৈতিকভাবে কম শক্তিশালী। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হলো বিশ্বের বুকে সবচেয়ে ধূর্ত কৌশল। এরা এতটা হালকা না যে রাশিয়া ও চীন তাদের ওপর খবরদারি করবে। এ ছাড়া অস্ত্রের ঝনঝনানি বাদে অন্য দিকে তো রাশিয়া কোণঠাসা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য রাশিয়াকে দুর্বল করা।

লেখক: মো. শফিকুল ইসলাম নিয়ামত, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন