default-image

একুশ আমার চিত্তজাগানিয়া
বাংলা মায়ের ভাষার অহঙ্কার,
একুশ যে আমার আপসহীনতার
প্রতিবাদী স্লোগানের ঝংকার।
একুশ আমার ভাই হারানো ব্যথার
চাপা পড়া বুকফাটা সে আর্তনাদ,
একুশ আমার তেজদীপ্ত সেই
বজ্রকণ্ঠের শপথের নিনাদ।

একুশ আমার আঁধার রাতের আলো
জ্বালাবার পথের দিশার আশ্বাস,
একুশ যে আমার রুদ্ধশ্বাসের
এক ফোঁটা অক্সিজেনেই নিশ্বাস।
একুশ আমার চেতনায় জ্বলজ্বলে
রক্তে ভেজা শহীদের শেষ ঠিকানা,
একুশ আমার দেশের মাটির বুকে
রক্তের ফিনকিতে আঁকা আলপনা।

একুশ আমার শক্তি, ভাষার মান
বাঁচানোর অদম্য সেই উচ্ছ্বাস,
একুশ আমার প্রাণে যত সাহস
মায়ের ভাষায় কথা বলা উল্লাস।
একুশ আমার প্রাণে উচ্ছলতা
সৃষ্টিসুখে চিত্তে বিহ্বলতা,
একুশ আমার বর্ণে বিচ্ছুরিত
হাজার কথায় গাঁথা ভাষার কবিতা।

একুশ আমার ধূ-ধূ মাঠে নীরবতা
ভেঙে, ভেসে আসা সুরের আকুলতা।
একুশ আমার ঘুঘু ডাকা দুপুরের
সুর তোলা নিশ্চুপ নিস্তব্ধতা।
একুশ আমার ন্যায্য অধিকার,
দিয়েছে যে অযুত আশার পূর্ণতা।
একুশ আমার ভাষার শক্ত জবাব,
ভিরিয়ে দিয়েছে মা, মাটির শূন্যতা।

একুশ আমার স্বপ্নে বিভোর রাতে
ওড়ায় পতাকা আকাশের সীমানায়,
দিগন্তবিস্তৃত ধানের খেতে
সোনায় সোনা ফলে হাওয়ার দোলায়।
একুশ আমার চেতনায় গেঁথে রাখা
সবুজ শ্যামলে ছাওয়া মায়ের মুখ,
একুশ আমার বুকের না বলা কথা
মায়ের ভাষায় সর্বোচ্চ সুখ।

*লেখক: লিনা রহমান, শ্যামলী, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন