default-image

বেশ কিছুদিন ধরে বেড়েছে মশার ভয়ানক উপদ্রব। দিনের বেলায়ও মানুষকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। গৃহস্থালি কার্যক্রম থেকে শুরু করে নানা কর্মস্থলে মশার উপদ্রব বেশ লক্ষণীয়। যে হারে মশার উপদ্রপ বেড়েছে, কিন্তু নেই তেমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরদারি। পরিত্যক্ত বিভিন্ন খাল, ডোবা, নর্দমা থেকেই মূলত মশার উৎপত্তি হচ্ছে; যা জনজীবনে ডেকে এনেছে বাড়তি ভোগান্তি। যেখানে-সেখানে ময়লার স্তূপ, ড্রেনের পানির সঠিক নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকা কিংবা নিজেদের অসচেতনতা মশার বংশবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাড়ির উঠানে বা ছাদে পানি জমতে দেখা যায়, এমন সব পরিত্যক্ত বস্তুতেই মশার বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে বা এমন স্থানে মশারা ডিম ফোটায়। এভাবেই বিস্তার হচ্ছে মশার, উপদ্রব ছড়িয়ে পড়ছে সব স্থানে।

মশা সাধারণত নানা রোগের বাহক। মশার নানা প্রকৃতি রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে বেশ পরিচিত অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে হতে পারে ম্যালেরিয়া। এডিস মশার কামড়ে হতে পারে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া। অন্যদিকে কিউলেক্স মশার কামড়ে হতে পারে ফাইলেরিয়া বা গোদ–জাতীয় রোগ। বর্তমানে মশার উপদ্রপ ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে চর্ম–জাতীয় নানা রোগ।

মশা সাধারণত যেভাবে সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করে তোলে, তা আমাদের নিকট কিছুটা পরিচিত। যেমন শুরুতে অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকে কামড় দিয়ে রক্ত চুষে আনে। রক্তের সঙ্গে অসুস্থ ব্যক্তির জীবাণু মশার শরীরে প্রবেশ করে। একসময় জীবাণু যখন বড় হয় এবং মশার লালাগ্রন্থির সঙ্গে লেগে থাকে, ঠিক তখন সুস্থ কোনো ব্যক্তিকে কামড় দিলে সুস্থ মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে। এভাবেই এক বা একাধিক মানুষের শরীরে মশাবাহিত রোগের বিস্তার ঘটে।

default-image

মশার উপদ্রপ প্রতিকারে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। মশার উপদ্রপ থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও করণীয় দিকগুলো হলো—
১.
মশাবাহিত রোগ বা মশার উপদ্রপ থেকে বাঁচতে প্রথমেই মশার ডিম ফোটানো স্থান কিংবা যেসব জায়গায় মশা বংশবিস্তার করে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে মশকনিধন ওষুধ দিতে হবে।
২.
পরিত্যক্ত ডোবা, নালা বা পুকুর পরিষ্কার করতে হবে; অন্যথায় ভরাট করতে হবে।
৩.
ড্রেনের ময়লা পানি যথাস্থানে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪.
বাসার আশপাশে থাকা জঞ্জাল বা ময়লার স্তূপ নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
৫.
খাওয়ার পরে ক্যান, প্যাকেট বা খোসা–জাতীয় আবর্জনায় পানি জমে এমন কিছু যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
৬.
ডাবের খোসা কিংবা পানি জমে এমন কিছু বাড়ির আশপাশে থাকলে পরিষ্কার করতে হবে।
৭.
ব্যালকনি, ছাদে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফুলের টব অথবা অব্যবহার্য কোনো বস্তু থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
৮.
কমোডের ঢাকনা বন্ধ রাখতে হবে, ময়লা রাখার পাত্রের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
৯.
গাড়ির যন্ত্রাংশ বা টায়ারে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
১০.
মশার উপদ্রপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মশারির ব্যবহার করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মোট কথা মশা ডিম পাড়ে, বংশবিস্তার করে এমন স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং নজরদারিতে রাখতে হবে। নিজেদের সচেতন হতে হবে। দিনের বেলায় অথবা সন্ধ্যাবেলায় মশার কয়েল জ্বালানো যেতে পারে, মশা নিধনে স্প্রে করা যেতে পারে, তাহলে মশা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ মিলবে। তবে মশকনিধনসামগ্রীর ব্যবহারবিধি জানতে হবে এবং ব্যবহার শেষে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বাচ্চা ও বয়স্কদের ফুলহাতার শার্ট বা শরীর ডেকে রাখা যায়, এমন পোশাক পরিধান করতে হবে। মশার কামড়ে চুলকানি কিংবা চর্ম–জাতীয় রোগ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মূলত ছোট ছোট অবহেলা থেকেই বাড়তে পারে ভয়াবহতা। করোনার সঙ্গে মশাবাহিত রোগের যেন বিস্তার না ঘটে, সে দিকে আমাদের সবাইকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক: কাব্য সাহা, শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন