বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বিপথগামীদের বাধাহীনভাবে মেসে আনাগোনা শিক্ষার্থীদের রুমে রক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্রকেও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলে। তা ছাড়া মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি বিল ও নতুন নতুন নিয়ম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের শোষণ তো মেসমালিকদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে যতটা না ঐক্যবদ্ধ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে নামে-বেনামে সমিতি গঠন করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি রাখতে মুনাফালোভী মেসমালিকেরা আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ।

এভাবে পড়তে এসেও পদে পদে লাঞ্ছনা, জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়া বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক ঘটনায় দাঁড়িয়েছে। তাই খবরের কাগজের উঠে আসা নির্যাতন–নিপীড়নের ঘটনাগুলো আমাদের তেমন বিস্মিত করে না। এমন প্রেক্ষাপটে ‘প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে’—কালজয়ী গানের এ লাইনগুলো আমাদের দারুণভাবে আন্দোলিত করে।

অনেকেই আছেন, যাঁরা ক্যাম্পাসের হলে হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় শুধু ছাত্রসংগঠন বা রাজনীতিকে দায়ী করেন। কিন্তু ক্যাম্পাসবহির্ভূত বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অরাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতেও যখন নিপীড়ন ঘটছে, সে ক্ষেত্রে আপনারা কাকে দায়ী করবেন? শুধু রাজনীতিকে দোষারোপ করে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।

রাজনীতি কলুষিত হয়নি বরং নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষেরা রাজনৈতিক বলয়ে আশ্রয় নিয়ে রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন। তাই রাজনীতি যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের পুনর্বাসনের বলয়ে পরিণত না হয়, সেটা আমাদের রাজনীতিবিদদেরই নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাঁকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নৈতিক শিক্ষার ভিত্তিকে মজবুত করতে সামাজিক জাগরণ অপরিহার্য অনুষঙ্গ হওয়া উচিত বলে মনে করি। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সজাগ ভূমিকা পালন জরুরি।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন