default-image

করোনাকালে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বোরো ধান উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কৃষক। বোরো ধানের মাঠে দোল খাচ্ছে বাতাস, যেখানে মিশে আছে কৃষকের স্বপ্ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা। গত বছর ধানের দাম ভালো থাকায় এ বছর বোরো ধান চাষের জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ২ লাখ ৫ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সম্ভাব্য ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কানিকশালগাঁও গ্রামের কৃষক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাঁচ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। এবার বোরো ধানের অবস্থা খুবই ভালো, তেমন রোগ বা পোকার আক্রমণ নেই। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সব করছি। আশা করি গতবারের চেয়ে ভালো ফলন পাব।’
অপরদিকে, করোনাকালীন খাদ্য নিরাপত্তায় বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। যেমন সুষম ও জৈব সারের পর্যাপ্ত ব্যবহার এবং রোগ ও পোকা দমনে সঠিক পরামর্শ।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় জানান, কৃষক যাতে বোরো ধান নিরাপদে ঘরে তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, বোরো মৌসুমের ধানের অন্যতম প্রধান রোগ ব্লাস্ট। ধানে ব্লাস্ট রোগের কারণে কখনো কখনো উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হতে পারে। ভেঙে যেতে পারে কৃষকের স্বপ্ন, সঙ্গে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।

বিজ্ঞাপন

ব্লাস্ট রোগ কী এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে কৃষকের করণীয় জানতে চাইলে রুহিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ তিন ধরনের; পাতা ব্লাস্ট, গিট ব্লাস্ট এবং নেক বা শীষ ব্লাস্ট। তন্মধ্যে নেক ব্লাস্ট রোগটি সবচেয়ে ক্ষতিকর যা শীষ অবস্থায় আক্রমণ করে এবং এতে শীষ সাদা ও দানা অপুষ্ট হয়। রাতে ঠান্ডা, দিনে গরম, কুয়াশাছন্ন আবহাওয়া, শিশিরভেজা সকাল, ঘন করে চারা লাগানো, পটাশ সারের কম ব্যবহার এবং ইউরিয়া সারের অধিক ব্যবহার ব্লাস্ট হওয়ায় অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ব্লাস্ট প্রতিরোধে ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক, দলীয় সভা, কৃষক প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং কৃষকের মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্লাস্ট প্রতিরোধে কৃষকদের সচেতনতা ও আগাম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে ট্রাইসাই কাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- ট্রুপার, বির, জিল প্রতি লিটার পানিতে ০.৮ গ্রাম অথবা টেবুকোনাজল ট্রইফ্লু ট্রোবিনজাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন ব্লাস্টিন, নিউভো, নাটিভো, প্রতি লিটার পানিতে ০.৬ গ্রাম হারে বিকেলবেলায় স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া যেসব জমির ধান নেক/ শীষ ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়নি অথচ এলাকায় রোগের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজমান, সেখানকার ধানের জমিতে রোগ হোক বা না হোক, ধানের শীষ বের হওয়ার আগমুহূর্তে উল্লেখিত অনুমোদিত ছত্রাকনাশক নির্দিষ্ট মাত্রায় পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে শেষ বিকেলে পাঁচ-সাত দিন অন্তর দুইবার প্রয়োগ করতে হবে।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন