default-image

কয়েক দিন ধরেই করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার খবর পাচ্ছিলাম। বাজারে মাস্কের ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। আমি মেস থেকে ক্যাম্পাসে হেঁটে যাওয়ার সময় বাজারের দোকানগুলোতে ভালোভাবে লক্ষ করতাম, সত্যিই মাস্ক নেই! তারপর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ ক্লাস শেষে হঠাৎ জানতে পারলাম, ক্যাম্পাস কিছুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে! বন্ধু–বান্ধবীদের দেখলাম তারা নোটিশ বোর্ড দেখছে সত্যিই ছুটি কি না। যা–ই হোক, বিকেলে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেললাম। আমি আর জুনায়েদ একসঙ্গে যাব। জুনায়েদ রাজবাড়ী নেমে, রাজবাড়ী থেকে বাস ধরে ফরিদপুরে চলে যাবে।

সন্ধ্যার পর থেকে এক অন্য রকম রাজশাহীর সঙ্গে পরিচিত হলাম। সবাই চলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তন্ময় এসে রুম গরম করে ফেলল, গিটারে গান ধরতে হবে। সবাই যখন বাসায় যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে, তখন আমরা গিটার নিয়ে রুমে চিল্লাচিল্লি করছি। অনেকেই হয়তো আমাদের কারণে বিরক্ত হয়েছে সেই দিন। এরই মধ্যে আমার রুমমেট জুনায়েদ ভাই চলে যাওয়ার জন্য তৈরি। ভাইয়ের গিটার দিয়ে দিলাম আর কোলাকুলি করে বিদায় নিয়ে নিলাম। তন্ময় ওর মেসে চলে গেল। দেখতে দেখতে মেস খালি হয়ে গেল। এক অন্য রকম শূন্যতায় ঘিরে ফেলল চারপাশ। ক্যাম্পাসের হলগুলোও সব খালি হয়ে গেছে। সবাই হল ছেড়ে রওনা দিয়েছে বাড়ির পথে। রাত ১২টার দিকে আমি, টুডু আর রজব বের হলাম চা খাওয়ার জন্য। বিনোদপুরে রাত ১২টা–১টার সময় চা খাওয়ার জন্য বের হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু ওই দিন বিনোদপুর অনেকটাই ফাঁকা ছিল। আমার মেসের মতো বিনোদপুরের চারপাশটাও ছিল নিস্তব্ধ, শূন্য। যদিও ছুটি ছিল অল্প কয়েক দিনের, কিন্তু মনে মনে ঠিকই জানতাম ক্যাম্পাস এত তাড়াতাড়ি খুলবে না। এরই মধ্যে মনে হলো একবার ক্যাম্পাস থেকে ঘুরে আসা দরকার। তারপর তিনজন রিকশা করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলে গেলাম ক্যাম্পাসে। ফাঁকা ক্যাম্পাসে গুটিকয় শিক্ষার্থীকে দেখতে পেলাম শুধু।

ভোর ৫টার দিকে টুডু রুমের সামনে এসে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলল। ভোরে ওর বাস ছিল। দুজন কোলাকুলি করে বিদায় নিলাম। আমিও আমার জিনিসপত্র গুছিয়ে সাড়ে ৬টার দিকে বের হয়ে পড়লাম। রাস্তায় রজবের মেসের সামনে রজবকে ফোন দিয়ে বললাম, ‘বন্ধু চলে যাচ্ছি।’ রজব ওর মেস থেকে নিচে এসে আমাকে বিদায় দিয়ে গেল। অল্প সময়ের মধ্যেই খুব কাছে চলে এসেছিল সবাই। কিন্তু সবকিছু দ্রুত ঘটে যাওয়ায় সেভাবে বিদায় নেওয়া হয়নি কারও কাছ থেকে।

বিজ্ঞাপন

চার বছর পর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলে এভাবেই হয়তো আরও একবার বিদায় নিতে হবে সবার কাছ থেকে। অনেক বছর পর হয়তো কারও সঙ্গে দেখা হবে, আবার অনেকের সঙ্গে হয়তো হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে প্রায়ই দেখি প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা তাদের ছাত্রজীবনের দিনগুলোর কথা মনে করে স্মৃতিকাতরতায় ভোগে। তখন আমার মনে হয়, আমরাও একদিন এ রকম স্মৃতিকাতরতায় ভুগব প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে।
Goodbyes are not forever
Goodbyes aren't final, when
You only mean we'll miss you
Until we meet again...

*লেখক: মো. ইসতিয়াক হোসেন, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন