default-image

কনকনে শীতের সাদা ও ঘন কুয়াশা আর বাতাসের শনশন শব্দ, আবহাওয়া ছেয়ে আছে প্রচণ্ড শুষ্কতা আর রুক্ষতায়। কুয়াশার চাদরে আবৃত হয়ে আছে বাংলাদেশ। তীব্র শীতে মানুষ এখন জড়সড়। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাহারি রঙের নতুন ফুলে ফুলে সেজেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাস। যেদিকে তাকাই সেদিকেই বিচিত্র সব বর্ণাঢ্য ফুলের সমারোহ। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা ক্যাম্পাস, যা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা না থাকলেও প্রাকৃতিক শোভা টেনে আনছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ঘুরতে আসা বিভিন্ন বয়সের মানুষদের। তাই তো প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার টানে বারবার ছুটে আসছেন ক্যাম্পাসে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনসমূহ, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরে, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের সামনে, বিভিন্ন অনুষদ ভবনের সামনে, বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে এবং প্রত্যেক হলের ভেতরে এবং বাইরেসহ ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি স্থানে গড়ে উঠেছে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান।

বিজ্ঞাপন

এসব বাগানে ফুটেছে নানান প্রকৃতির ফুল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন ধরনের গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ, আকাশি-সাদা স্নোবল, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগ ঝুঁটি, কসমস, জুঁই, চামেলি, টগর, বেলিসহ নানান প্রজাতির ফুল।

প্রতিদিন প্রকৃতির সুশোভিত সবুজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে সব বয়সের দর্শনার্থী বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা। প্রকৃতির টানে ব্যস্ত সময়ে একটু অবসরের প্রয়োজনে বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে এই ক্যাম্পাসে। যেখানে প্রকৃতির মধ্যে যুক্ত হয়েছে এই ফুলের বাগান।

এর মধ্যে নিজেকে ক্যামেরায় বন্দী না করলে চলেই না। চারদিক থেকে ভেসে আসে ক্যামেরার ক্লিক, ক্লিক শব্দ। ছবি ও সেলফি তোলায় ব্যস্ত থাকে সবাই। কেউ ব্যস্ত সেলফি তোলায়, আবার কেউ ব্যস্ত বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ছবি তুলতে আর কেউ ব্যস্ত নিজের ছবি তোলায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুল দেখতে স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষের পদচারণে মুখরিত থাকে বাকৃবির সবুজ ক্যাম্পাস।

*লেখক: তানিউল করিম জীম, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন