বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমরা বলি, পর্যটনের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এ নিয়ে আলোচনারও কমতি নেই। তবে তা শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে যাচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে আর কাজে লাগানো হয়ে উঠছে না। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ উদাসীনতা। এই উদাসীনতার অন্যতম কারণ হলো পর্যটনের উন্নতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বলেন, সমুদ্র পর্যটনের সম্ভাবনা বিপুল, যা বাস্তবিক অর্থেও সত্য। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে কেউই গ্রহণ করছে না। তার একটি অন্যতম উদাহরণ, এবারের বাজেটেও সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়নি। ঠিক এভাবেই পর্যটনশিল্পের ক্ষেত্রগুলো বিকাশ না ঘটে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। পর্যটন নিয়ে আমরা স্থলে যেমন ব্যর্থ হচ্ছি, সমুদ্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটন খাত গড়তে পণ্যের অভাব নেই। তাই এ আকর্ষণগুলোকে পর্যটনপণ্যে রূপান্তর করার জন্য যেসব লজিস্টিক ও সাপোর্ট সার্ভিসের দরকার, সেগুলোকেও তৈরি করতে হবে। আর এ জন্য চাই সুষ্ঠু সম্পদ ব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে থাকবে এসব পর্যটনসম্পদ চিহ্নিতকরণ, স্তরীকরণ, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।

করোনা মহামারির কারণে পর্যটনশিল্প একেবারেই বেহাল। তার ওপর এই উদাসীনতা দূর করতে না পারলে আরও বিপাকে পড়বে আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্প। তাই পর্যটনশিল্পকে কাজে লাগাতে হলে অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে সমুদ্র পর্যটন হতে পারে অন্যতম হাতিয়ার।

সমুদ্র পর্যটনকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে—
ক. কোস্টাল ট্যুরিজম
সমুদ্রতীরকে কেন্দ্র করে বিশ্রাম ও বিনোদনভিত্তিক যে পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে কোস্টাল ট্যুরিজম বা সৈকত পর্যটন বলে। সূর্যস্নান, সমুদ্রের পানিতে বিনোদনমূলক গোসল, সৈকতে হাঁটা, ঘুড়ি ওড়ানো, প্যারাগ্লাইডিং, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা এই ট্যুরিজমের আওতাধীন।
খ. মেরিটাইম ট্যুরিজম
সমুদ্রকে কেন্দ্র করে যে পর্যটন, তাকে মেরিটাইম ট্যুরিজম বলে। সাঁতার, সার্ফিং, উইন্ডসার্ফিং, ডাইভিং, সি-বার্ড ওয়াচিং, জলযানে চড়ে সমুদ্রভ্রমণ ইত্যাদি মেরিটাইম ট্যুরিজমের আওতাধীন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপীয় পর্যটকদের প্রায় ৬০ শতাংশই কোস্টাল ট্যুরিস্ট।

default-image

২০১১ সালে ইউরোপের দেশগুলো সমুদ্র পর্যটন থেকে আয় করে ১৮৩ বিলিয়ন পাউন্ড, যা তাদের সমুদ্র অর্থনীতির প্রায় ৩৩ শতাংশের বেশি, পর্যটকদের তখন বাড়ন্ত চাহিদা ছিল বার্ষিক ২-৩ শতাংশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে ২০৩০ সালে চাহিদা কোথায় দাঁড়াবে, তা বিবেচনাসাপেক্ষও বটে। আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপ পর্যটনেও অনেক সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং ভিসা–ব্যবস্থা সহজীকরণ প্রয়োজন। এ জন্য দ্রুত ই-ভিসা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এতে শুধু পর্যটন নয়, ব্যবসায়িক ভ্রমণও বাড়বে বাংলাদেশে। সমুদ্র পর্যটনের খাতকে বর্ধিত করতে চাইলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে, পরিষেবাভিত্তিক সেবার উন্নয়ন, সক্ষমতা ও সচেতনতা বাড়ানো, সমন্বয়, কৌশল ও পরিকল্পনার প্রয়োজন এবং আইটিভিত্তিক সেবা গড়ে তোলা, যেমন ভিডিও তথ্যচিত্র, সামুদ্রিক ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণ, যেটা বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত।
বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন দিয়ে মাইলফলক সৃষ্টি করা সম্ভব এবং সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এক দিকে যেমন দেশের অর্থনীতির প্রসার হবে, অন্তর্ভুক্তিকরণ উন্নয়ন হবে; অপর দিকে বাংলাদেশকে আমরা এক অনন্য মাত্রায় দাঁড় করাতে পারব। সরকার যত দ্রুত ও সহজভাবে এ পর্যটন খাতকে বাস্তবায়নে উপযোগী হবে, তত দ্রুত প্রমাণিত হবে, সমুদ্র পর্যটন দিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলানো সম্ভব।
*রিম্পা খাতুন, শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন