বিজ্ঞাপন

অর্থনীতির চাকা সচল নয়, বরং বিপর্যস্ত অর্থনীতির করুণ দশায় পূর্ব পাকিস্তানকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল পশ্চিম পাকিস্তান। স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে যে দেশটি অর্থনৈতিক মুক্তির শঙ্কায় ছিল, সে দেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গণ্য মানেই বাংলাদেশের উন্নয়নে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলা! যে দেশ পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি বা সংস্কৃতির ওপর আঘাত করতে পিছপা হয়নি সে দেশকে (বাংলাদেশ) পাকিস্তানের অনুসরণ করতে বলা মানেই তো একাত্তরের মধুর প্রতিশোধ! সেখানে উন্নয়নের স্পৃহা সমাজের সব মানুষের অবদানকে বিমোহিত করে। বাদ যায়নি গ্রামের দামাল ছেলেদের পরিশ্রমও।

অন্যের দ্বারা নিষ্পেষিত হয়েও যে দেশ খাদের কিনারা থেকে আস্তে আস্তে উন্নতির ধাপে এগিয়ে চলে, সেই সোনার বাংলাকে নিয়ে আজ আমরা গর্ব করতে পারি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে যে দেশ সুন্দর ভুবনকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে, সেটি বহু কষ্টে অর্জিত সোনালি অর্জন। সে অর্জনে গায়ের দামাল ছেলেদের যেমন হাত রয়েছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাতে গড়া গার্মেন্টস কিংবা তৈরি পোশাকশিল্পের অবদানও অমলিন থেকে যায়। আমরাই আমাদের দেশটাকে সুন্দর করে গড়তে জানি। সুন্দর সংস্কৃতির অবদানে নিজের দেশটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে স্বাধীনতা অর্জন করি। সেখানেই আমরা খুঁজে পাই বাঙালির আত্মিক বন্ধন। তাই তো আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের স্বীকৃতি লাভ করে স্থায়ী উন্নয়নের যুগে প্রবেশ করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে লিঙ্গগত বিভাজন দূর করা হয়েছে। উন্নত করা হয়েছে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন খাত। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় পার করে মাধ্যমিকে ভর্তির হার প্রশংসনীয় বলা চলে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রত্যয়ে দেশ এগিয়ে চলে।

দারিদ্র্যের হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের উন্নয়নের সম্পর্ক চিরায়ত। দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের দেশ সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে আজকের এই বাংলাদেশকে আমরা কাছে পেয়েছি। অগ্রগতির জন্য অগ্রগণ্য সব ক্যাটাগরিতে এক বিস্ময়ই বলা চলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচ্ছলতার সোপানে টেনে নিয়ে আসা আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ধারণাই তৈরি করে। করোনার সময়ে ব্যবসা–বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়লেও প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে আসে। এলডিসি থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা ২০১৮ সালে অর্জন করে। জিডিপিতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রশংসনীয় পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

যাঁদের মাথা রাখার মতো ঠাঁই ছিল না, এমন ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দিয়েছে বর্তমান সরকার। মুজিব বর্ষে এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্যই নির্বিঘ্নে রাত্রি যাপন করছে এসব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।

বিশ্বায়নে ক্রমেই বেড়ে চলেছে প্রযুক্তির হাতছানি। অনেক আশা-নিরাশার দোলাচলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরাও পিছিয়ে নেই। সে ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদারই বলা চলে। করোনা মোকাবিলায় ভারত থেকে সঠিক সময়ে টিকা পাওয়া ভালোবাসার হৃদ্যতাই প্রকাশ করে। দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্যই এ অভূতপূর্ব সাফল্য। এটি বর্তমান সরকারের সফলতার অন্যতম দিক। বলতেই পারি, দেখে যাও হেনরি কিসিঞ্জার, আমাদের দেশের ঈশ্বর পাটনীর সন্তানেরা আজ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, উন্নয়নে এগিয়ে চলে। আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা এখন টেস্ট খেলায় জিততে জানে। কখনোবা; বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নে বিভোর থাকে। প্রতিনিয়ত টিমটার জ্বলে ওঠার জন্য দুই হাত তুলে সবাই প্রার্থনারত থাকে।

কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার আশা আমাদের বাঁচতে শেখায়, নবোদ্যমে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। গভীর মমত্ববোধের মিশেলে প্রিয় দেশটাকে স্বাচ্ছন্দ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। তাই পদ্মা সেতুর মতো বিশাল কর্মযজ্ঞেও দুঃসাহসিক কাজে অগ্রসর হই। স্বপ্নের পদ্মা সেতু দুই পারের জীবনযাত্রার আবহকে চিরকাল পথচলার মেলবন্ধন তৈরি করে দেবে। হৃদয়ে ধারণ করি দেশের উপার্জিত সোনালি অর্জন। সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে পরম মমতায় আগলে রেখে যারা দেশটাকে সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। তা না হলে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বার্তায় উন্মুখ হতে পারতাম না।

আস্তে আস্তে আমাদের প্রিয় দেশ সফলতা বয়ে নিয়ে আসবে। উন্নতির আবহে নিজেকে রাঙিয়ে নেবে। বাঙালির চেতনা ধারায় দেশটিকে বৈচিত্র্যময়তায় রূপদান করবে।

*লেখক: অনজন কুমার রায়, ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন