বিজ্ঞাপন

সেই সময়ের আমার লেখা খাতা, বইপত্রের মধ্যে তিনটি নাম সর্ব সময়ে লিখে রাখতাম। রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত। কবির হওয়ার স্বপ্ন বুনতে থাকি। ‘একটি মোরগের কাহিনী’ কবিতা পড়ে আমি একটি এমন কবিতা লিখে ফেললাম। তারপর কবিতার প্রভাব পড়তে লাগে। বিপ্লবী চিন্তাগুলো মনে ভেতরে তাড়া দিতে লাগত। মনে হতে আমিও বেশি দিন বাঁচব না। সুকান্ত মতো একুশে বছরে চলে যাব। এমনটা মাথায় মধ্যে ঘুরপাক করত। দেশের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে হবে। কবিতা লিখতে হবে। তারপর অকবিতা প্রতিদিনে এক-দুইটা করে লিখে রাখতাম। আর চাচাকে দেখাতাম। চাচা তো আমাকে একবিংশের এক ‘উদীয়মান’ কবি হিসেবে বলতে শুরু করল।

সুকান্তের কবিতা যেমনি ভক্ত ছিল। তাঁর চেয়ে বেশি ভক্ত হয়ে উঠি তাঁর দুর্দান্ত চিঠিগুলো। প্রতিটি চিঠিতে তার সুখ-দুঃখ, স্বপ্নের কথা উল্লেখ্য থাকত। বন্ধু কবি অরুণাচল বসুকে লেখা চিঠিগুলো কী সাবলীলভাবে লেখা। ছিল মান-অভিমানে চিত্র। ভালোবাসা, ক্ষমা, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, জীবনে ক্লান্তির কথা, নতুন লেখার কথা—কত কিছু। উল্লেখ করা যেতে পারে—

‘অরণ
তোর অতি নিরীহ চিঠিখানা পেয়ে তোকে ক্ষমা করতেই হলো, কিন্তু তোর অতিরিক্ত বিনয় আমাকে আনন্দ দিলো এই জন্যে যে, ক্ষমাটা তোর কাছ থেকে আমারই প্রাপ্য কারণ তোর আগের “ডাক-বাহিত” চিঠিটার জবাব আমারই আগে জবাব দেওয়া উচিত ছিলো। যাই হোক, উল্টো আমাকেই দেখছি ক্ষমা করতে হলো। তোর চিঠিটা কাল পেয়েছি, কিন্তু পড়লুম আজকে সকালে, কারণ পরে ব্যক্ত করছি।...’

default-image

এমন সব চিঠি। অরুণাচলকে লেখা ৩২ নম্বর চিঠির এক অংশে ছিল—
‘কাল মেজবৌদি-মাসিমাকে নিয়ে মেজদা এসেছিল। চলে যাবার পর বড় মন খারাপ হয়ে গেল। বাস্তবিক শ্যামবাজারের ঐ পরিবেশ ছেড়ে এসে রীতিমত কষ্ট পাচ্ছি। তুই কি এখনো দাঙ্গার অবরোধের মধ্যে আছিস? না কলকাতায় যাতায়াত করতে পারছিস?’

আজ বিপ্লবের কবি, রাজনীতিসচেতন কবি, সংগঠক সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। কবি ১৯৪৭ সালের আজের দিনে যক্ষ্মারোগের কাছে জীবনযুদ্ধে হেরে যান। কিন্তু তাঁর লেখনী আমাদের আজীবন শক্তি, প্রেরণা হিসেবে থাকবে। তাঁর তীক্ষ্ণতর কলমের শক্তি তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে চিরকাল। কবিকে বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক: আবু সাঈদ, কবি ও সংগঠক

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন