default-image

‘রোগ-বালাইয়ের বাইরেও বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। তাই শিশুমৃত্যু নিয়ে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রতিরোধযোগ্য এই মৃত্যু কমাতে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সমষ্টি আয়োজিত সাংবাদিকদের অবহিতকরণ এক কর্মশালায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় বলা হয়, শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকে বৈশ্বিকভাবে এসডিজির অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পানিতে ডুবে মৃত্যুকে অগ্রাধিকার তালিকায় আনা হয়নি। ফলে অসুস্থতাজনিত শিশু মৃত্যুর হার কমানো গেলেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার প্রতিরোধে কর্মসূচি গ্রহণ না করা হলে সার্বিকভাবে শিশুমৃত্যুর উচ্চহার না কমার আশঙ্কা রয়েছে।

পানিতে ডুবে মৃত্যু সারা বিশ্বে আঘাতজনিত শিশুমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর তিন লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ব্যক্তির পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। এদের ২০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হারে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম। বাংলাদেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ পানিতে ডুবে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে গড়ে ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়। এদের ৩২ শিশুর বয়সই চার বছরের কম। বছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজারে। এ ছাড়া পানিতে ডোবার কারণে আরও ১৩ হাজার শিশু স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করে, এক লাখ শিশু নানাভাবে আহত হয়।

বিজ্ঞাপন
এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ২৫০ ঘটনায় ৪৪৮ ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩১৭ জনের (৭০.৭৫ %) বয়স ৯ বছরের কম। মৃতদের মধ্যে ১৬৯ জন নারী বা কন্যাশিশু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে বাড়ির আশপাশের পুকুর বা জলাশয়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় আগস্ট মাসে

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সমষ্টি পরিচালিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ২৫০ ঘটনায় ৪৪৮ ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩১৭ জনের (৭০.৭৫ %) বয়স ৯ বছরের কম। মৃতদের মধ্যে ১৬৯ জন নারী বা কন্যাশিশু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে বাড়ির আশপাশের পুকুর বা জলাশয়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় আগস্ট মাসে।

কর্মশালায় বলা হয়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর সব ঘটনার তথ্য গণমাধ্যম পায় না। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের অভাব রয়েছে।

কর্মশালায় বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, এত শিশুর মৃত্যু সত্ত্বেও বিষয়টি পরিকল্পনা ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অগ্রাধিকার তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। ফলে এ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বা জাতীয়ভাবে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশে শিশুরা পানিতে ডুবছে বাড়ির ২০ গজের মধ্যে এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটছে মূলত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। এ সময়ে মা-বাবা, বড় ভাই-বোন বা পরিচর্যাকারীরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া উদ্বেগের বিষয় হলো, বাড়ির আশপাশের ডোবা-নালা-পুকুর-খাল-বিল উন্মুক্ত। শিশুরা অন্যদের অলক্ষ্যে অবাধে জলাশয়ে চলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত কর্মশালার বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন সমষ্টির পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের জ্যেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য পড়ুন 0