default-image

নাগরিক পাঠাগার
সেকশন: নাগরিক সংবাদ
ট্যাগ: নাগরিক সংবাদ, পাঠক সংবাদ
ছবি ১ ও ২ নামে
ক্যাপশন:
পথচারীদের জন্য পাঠাগার
খুরশিদ জামান কাকন
দুপুরের তখন কাঠফাটা রোদ। চারদিকে সুনসান নীরবতা। কোথাও সে রকম কর্মচঞ্চলতা নেই। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। টুকটাক যানবাহন চলছে। এ রকম সময়ে সামনে এগোতে পথের ধারেই দেখা মিলল একটি বুক সেলফের। সেলফভর্তি বই। পাশেই দাঁড়িয়ে কেউ বই পড়ছেন। আর কেউবা নিজের পছন্দমতো বই খুঁজছেন। দৃশ্যটি পথের পাঠাগারের। পথচারীদের জন্য ব্যতিক্রমী এই পাঠাগার গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

সৈয়দপুর শহরের ক্যান্টনমেন্ট সিএসডি মোড় এলাকার গোলচত্বরে গেলে দেখা মিলবে পথের এই পাঠাগারের। কর্মব্যস্ত জীবনে একটুখানি বিশ্রামের ফাকে এই পাঠাগার যেন পথচারীদের একমাত্র বিনোদনের খোরাক। তাই তো মধ্যদুপুরেও বইপ্রেমীদের দু-একজনকে দেখা গেল বইয়ের নেশায় বুঁদ হতে। অল্প সময়ে সাড়া জাগানো উন্মুক্ত পাঠাগারটি সর্বক্ষণই পথচারীদের আনাগোনায় মুখর থাকে।

পাঠাগার আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’ এই পাঠাগার গড়ে তুলেছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি অর্ধশতাধিক বইয়ের সমারোহে পথের পাঠাগারটি উদ্বোধন করা হয়। প্রথম থেকেই ভিন্নধর্মী এই পাঠাগার যেন পথচারীদের আগ্রহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সৈয়দপুরের বইপ্রেমীদের অনেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে একবার করে হলেও পথের পাঠাগারে আসেন। নিরিবিলি কিছুটা সময় বই পড়াতে মগ্ন থাকেন। এখানে আছে ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্মীয় ও মনীষীদের জীবনীর ওপরে লেখা বিভিন্ন বই।

ধীরে ধীরে সৈয়দপুরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এই পাঠাগারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হৃদয়ে সৈয়দপুরের সদস্যরা। তাঁরা এখানে প্রতি মাসে নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করেন। নিয়মিত পত্রিকাও রাখেন। পাঠকদেরও কেউ কেউ নিজের সংগ্রহে থাকা বই পথের পাঠাগারে এনে দেয়। এখানে আছে একটি রেজিস্টার খাতা। পথচারীদের যে কেউ এই পাঠাগারের সদস্য হতে পারবে। নাম নিবন্ধন করে বাড়িতে নিয়ে গিয়েও বই পড়ার সুযোগ পাবে। সর্বসাধারণকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করা এই পাঠাগারকে এখন পথচারীরা নিজের করে নিয়েছে। পরম যত্ন আর গভীর ভালোবাসায় পথের পাঠাগারকে আগলে রাখার কাজটা পথচারীরাই করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

পথের পাঠাগারের একজন নিয়মিত পাঠক মেরিনা আক্তার মৌলি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। চলার পথে ব্যতিক্রমী এই পাঠাগার দেখে আমরা সবাই নতুন করে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। যান্ত্রিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়ার জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করার চেষ্টা করছি।’

হৃদয়ে সৈয়দপুরের পথের পাঠাগারের আরেক পাঠক মুন্না সরকার জানান, ‘পথচারীদের জন্য গড়ে ওঠা এই পাঠাগারকে আগলে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। এ কারণে আমি নিজের সংগ্রহে থাকা কিছু বই পথের পাঠাগারে দিয়েছি।’

পথের পাঠাগারের প্রধান উদ্যোক্তা হৃদয়ে সৈয়দপুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা বলেন, ‘প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় স্মার্টফোন এখন হাতে হাতে। বর্তমানে সবাই ব্যস্ত ইন্টারনেট–দুনিয়ায়। আগের মতো বই পড়ার অভ্যাস এখন কজনেরই–বা আছে। এ জন্য পথের মধ্যে উন্মুক্ত পাঠাগার গড়ে তুলে সবাইকে বই পড়তে উৎসাহিত করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।’

*লেখক: শিক্ষার্থী

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন