বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নৌপথে প্রতিটি দুর্ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি হয়। নিয়ম অনুযায়ী কিছু তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেয়। তদন্তে উঠে আসে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা। অদক্ষ চালক, ত্রুটিযুক্ত ও লাইসেন্সবিহীন নৌযান, বন্দর তত্ত্বাবধায়ক ও নৌযানের মালিকের দায়িত্বহীনতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবসহ নানা কারণ।

নৌদুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, এ জন্য অভিযোগের সঙ্গে তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশও করে। কিন্তু এরপর এসব তদন্ত প্রতিবেদন এবং সুপারিশ কোনটিই আলোর মুখ দেখে না। আসলে নৌপথে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাগুলোকে দুর্ঘটনা বললে ভুল হবে। এগুলো একপ্রকার হত্যাকাণ্ড। হত্যার বিচারের মতোই এগুলোর বিচার হওয়া উচিত; কিন্তু বিচারের নজির যখন চোখে পড়ে না, তখন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কখনো দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তখন করণীয় কী, তা যাত্রার শুরুতেই যাত্রীদের অবহিত করা উচিত। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকলেও, দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধার হওয়ার উপায় না জানার কারণে সব বিফলে যায়। জীবন রক্ষাকারী সব উপকরণ পর্যাপ্ত আছে কি না, যাত্রার শুরুতেই তা দেখা উচিত।
অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের দোষও কোনো অংশে কম নয়। বিশেষ করে উৎসবের সময় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা বেশি। তাই যাত্রীদের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।

সর্বশেষ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে শতাধিক যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বৃদ্ধ, শিশুসহ অনেকে নিখোঁজ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পরিসংখ্যানমতে, ২০২০ সালে নৌপথে ছোট-বড় ৭০টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ২১২ জন। আহত ও নিখোঁজ হন আরও অন্তত ১০০ জন। নিঃসন্দেহে এ পরিসংখ্যান আমাদের জন্য অশনিসংকেত। নৌপথের সব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর হোক। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে নৌপথকে নিরাপদ করতে হবে। অন্যথায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

লেখক: আনিসুর রহমান, শিক্ষার্থী, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন