বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে এ বছর প্রায় ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখতে হচ্ছে। দুপুর গড়াতেই শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে কলেজে আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের মাঠে জমায়েত হতে শুরু করেন। কেউ পাঞ্জাবি-টুপি, কেউবা শার্ট-ফতুয়া গায়ে হাজির হন। কখনো কখনো নারী শিক্ষার্থীরাও শামিল হন ইফতার আয়োজনে। আসরের নামাজ শেষে একত্রে গোল হয়ে সবুজ গালিচায় বসে গল্প, আড্ডা, হামদ-নাদ ও দোয়া চলতে থাকে সূর্য ডোবার আগমুহূর্ত পর্যন্ত। আজানের ধ্বনি কানে আসতেই সবাই একসঙ্গে ইফতারের আনন্দে মেতে ওঠেন।

পরিবার থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থী বন্ধু–সহপাঠীর মধ্যেই খুঁজে নেন শৈশবের ইফতারের স্মৃতি। কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা ইফতারেও থাকে বাহারি খাবারের আয়োজন। এর মধ্যে থাকে আলুর চপ, পেঁয়াজু, ডিমের চপ, জুস, বেগুনি, জিলাপি, খেজুর, বুন্দিয়া, বড়া এবং নানা রকম ফল।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মামুন সোহাগ বলেন, সাধারণত ক্যাম্পাসে আড্ডামুখর হয় ইফতার আয়োজন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোয় ইফতার আয়োজনে তেমন আড়ম্বরতা না থাকলেও এ নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার যেন কোনো কমতি থাকে না। ক্যাম্পাসে ইফতার মানেই প্রাণের মেলা, ভিন্ন উৎসব।

কলেজের অন্য এক শিক্ষার্থী ফয়সালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে ইফতার করার আলাদা একটি তৃপ্তি রয়েছে। বিশেষ করে বিকেলে এখানে শীতল বাতাস বয়, যা মন ভালো করে তোলে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিধিনিষেধ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। গত বছরও রমজান বিধিনিষেধের মধ্যে হাওয়ায় ছিল না তেমন কোনো আয়োজন। মানুষ ছিল ঘরবন্দী, স্বাভাবিক জীবনযাপনে ছিল বিধিনিষেধ। এ কারণে এবার উন্মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ–আনন্দ নিয়ে ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন করছেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন