বিজ্ঞাপন
default-image

তখন আমরা এত ক্লান্ত যে একে অন্যের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে গেছি যে প্রয়োজনে মন্ত্রী পর্যায়ে যাব কিন্তু হারব না। দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে গেলাম। তিনিও নাকচ করে দিলেন।

আমরা অবস্থান নিলাম তার রুমের বাইরেই। যে পর্যন্ত তিনি আমাদের বৃদ্ধাদের সরকারি মূল্যে চাল দেবেন না, আমরাও অবস্থান থেকে সরব না। তিনি আমাদের তলব করলেন। আমাদের সব কথা শুনে প্রধান খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাহেবকে ফোন দিয়ে মৌখিক নির্দেশ দিলেন যেন আমরা সরকারি মূল্যে চাল পাই। আমরা ধন্যবাদ দিয়ে বেরোবার সময় আবার ডাকলেন। বললেন, ‘এবার বোকামি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এসে জ্বালাতন করেছ। জ্বালাতন কর, বাধা নেই। তবে সামনেরবার ত্রাণ মন্ত্রণালয়েও যেয়ো। ওখানে টাকা দিয়ে কিনতে হবে না। এভাবে জ্বালাতন করলে এমনিই চাল দিয়ে দেবে।’ আমরা বোকা হাসি দিলাম।

মহাপরিচালক সরোয়ার আলমের মৌখিক নির্দেশের বিষয়টি আমরা সবাইকেই জানাই। তার এই নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক–শিক্ষিকা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আশাতীত আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়। একদিকে আর্থিক সাহায্য আর অন্যদিকে সরকারের কাছ থেকে অর্ধেক মূল্যে চাল পেয়ে ত্রাণকাজ নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়। গেন্ডারিয়া ও আজিমপুর এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যুবারা।

গত ২০ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়া এলাকায় এই ত্রাণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাসলিমা হুদা স্বপ্না, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ৪৫, ৪৬, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সাথী আক্তার।

এদিকে ২১ সেপ্টেম্বরে আজিমপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ের ত্রাণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক রাশিদা বেগম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ হাসিবুর রহমান মানিক।

default-image

কাউন্সিলর সাথী আক্তার বলেন, যুবদের এই কাজে আমিও অনুপ্রেরণা পাই। সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যেসব ত্রাণ আমরা দিয়েছি, তা প্রয়োজন পুরোপুরি মেটাতে পারেনি। আর যারা কখনোই ত্রাণের আওতায় আসে না, যারা জানেই না কোথায় ত্রাণ দেয়, তাদের বাছাই করে ত্রাণ দেওয়ার বিষয়টিই যুবাদের সবচেয়ে বড় সফলতা।
কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, যুবকদের এই কাজ সত্যিই প্রশংসার বিষয়। ত্রাণ অনেকেই দেয়, কিন্তু এভাবে নিজেদের বেতন দান করে, সরকার থেকে দেনদরবার করে কম মূল্যে চাল কিনে বিনা মূল্যে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। তাদের এ ধরনের সব কাজে স্থানীয় সরকার পাশে আছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রোববার, আজিমপুরে তৃতীয় পর্যায়ের ত্রাণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেখ শাকিল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল হোসেন। যুবকদের এই কার্যক্রমের ইতিবৃত্ত মকবুল হোসেনকে আপ্লুত করে। অশ্রুভেজা চোখে তিনি সর্বদা এই তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং সমাজকর্মে কাজ করে যাওয়ার জন্য যুবাদের প্রেরণা দেন।

যুব পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিমেল এই কাজকে সফল করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার ও নারী মৈত্রীকে ধন্যবাদ দেন। তিনি জানান, আমরা যা করছি তা সাময়িকভাবে মানসিক যন্ত্রণা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু খাদ্যসহায়তার মাধ্যমে মূল সমস্যা নির্মূল করা যাবে না। আমরা যুবকেরা মিলে সামনে দারিদ্র্যের স্থায়ী বিমোচনে কাজ করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনৈতিক গবেষণার কাজ শুরু করেছি। গবেষণা শেষে আমরা মাঠে নামব। আমাদের পুরো ঘটনা শোনার পর কয়েক দিন আগেই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ্জামান আমাদের তাঁর অধিদপ্তরের সঙ্গে যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

default-image

তাজির মা’র প্রকল্পের এভাবে খাদ্যসহায়তার কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু হলো, এর শেষটা হবে দারিদ্র্যের বিলুপ্তি দিয়ে। আমাদের কাজ আর স্বপ্নের পরিধি শুনে আকাশকুসুম মনে হতে পারে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা আমাদের স্বপ্নের সমান বড়। আর স্বপ্ন বাস্তব হবেই। এটি বাস্তব করতে যা করা প্রয়োজন আমরা তা করব।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন