default-image

একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। তবে সে শিক্ষা যদি দেশের উচ্চ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়, তবে তো দেশ একটি সোনার টুকরো সন্তান পাবে, পাবে জাতির একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। প্রতিটা সন্তান কামনা করে নিজে শিক্ষিত হবে, নিজের পরিবার, দেশ ও জাতিকে আলোকিত করবে। প্রতিটা পরিবার স্বপ্ন দেখে তার সন্তান দেশের নাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য যদি শিক্ষার যৌক্তিক পথগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে কি সে জাতি আলোকোজ্জ্বল সকাল দেখবে কখনো? অন্ধকার বড্ড কালো, যদি আলো না পৌঁছায়। তেমনি জাতি খুবই নিমজ্জিত যদি শিক্ষার উপযুক্ত বিস্তার না ঘটায়।

হয়তো বুঝতে কষ্ট হয়নি সময়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দেশের সংখ্যালঘু বিভাগ পরিবর্তনকারী অসহায় শিক্ষার্থীদের কথা বলছি। মনে পড়ে! জীবনের শুরুটা সংগ্রাম আর শেষটা সংগ্রামে যায়। মাঝপথে রঙিন স্বপ্ন আর কল্পনাহীন সিদ্ধান্ত অনেক কিছু ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনই আজ বিভাগ পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীরা হলো সেসব হতভাগা, যাদের হাতে বিভাগ পরিবর্তনকারী ইউনিট আর মৃত্যু ছাড়া আলাদা কোনো পথ বা রাস্তা নেই। একটু জেনে নিই বিভাগ পরিবর্তনটা আসলে কী?

বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট হলো বিজ্ঞান, বাণিজ্য আর মানবিকের বাইরে থাকা একটি ইউনিট। যেখানে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান—এই তিনটি বিষয় পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারে। কিন্তু এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সেই ইউনিট রাখা হয়নি। অতি দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তনশীল মানি, তবে উত্তাল সমুদ্রের মাঝে তরি ডুবিয়ে মারার মতো পরিবর্তনশীল মনমানসিকতা কী করে হয়? যদি আপনারা ‘ডি’ বা বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখতে সম্মতি পোষণ না করেন, তাতে আমাদের কিছু যায়–আসে না। তবে সে সিদ্ধান্ত তো এক বছর আগে জানাবেন।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষার আগমুহূর্তে এসে এমন একটি সিদ্ধান্ত একান্তই বৈষম্য ও শিক্ষাজুলুম। যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডি’ ইউনিট বাতিল করবে বলেছে এবং তারা এক বছর আগে নোটিশে বলেছে যে আগামী বছর ‘ডি’ ইউনিট থাকবে না। তবে আপনারা গুচ্ছতে থাকা ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন তাদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারল না? আপনারা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। কেমন সুযোগ-সুবিধা? গুচ্ছতে পরীক্ষা নিলে একটি পরীক্ষা হবে তাতে যাতায়াত কমবে, খরচ কমবে। কিন্তু অসুবিধা যে মৃত্যু রেখেছেন, সেটা কি তারা জানে না? যেখানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমরা এক লাখের বেশি সেকেন্ড টাইমার বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান পড়ছি, তারা কী করে করোনাকালে, সংকটময় মুহূর্তে নতুন করে নিজ নিজ ইউনিট বিজ্ঞান, বাণিজ্যের জন্য এই দু-তিন মাস সময়ে প্রস্তুতি নেব? এটা অসম্ভব।

মা-বাবা পারবে না নতুন করে বই কিনে দিতে, পারবে না টিউটর দিয়ে পড়িয়ে পাবলিকের স্বপ্ন দেখাতে। তবে কেন আপনারা মনগড়া এমন একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন? কেন এমন হলো, আমরা শিক্ষার্থীরা এর উপযুক্ত জবাব চাই। আমরা এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকবে। কিন্তু গত ১৯ ডিসেম্বর জানানো হলো, বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকবে না। ২০ ডিসেম্বর থেকে আমরা দেশের সিংহভাগ জেলায় বিক্ষোভ করেছি। ঢাকায় দুবার আন্দোলন, মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি। কিন্তু আমাদের শিক্ষকেরা কোনো কর্ণপাত করেনি। এমন একটি শিক্ষাজুলুমের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

  • শিক্ষার্থী, মো. রাসেল মাহমুদ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন