বিজ্ঞাপন
default-image

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের ২০১৯ সালের একটি রায়ে দেশের নদ-নদীগুলোকে জুরিসটিক পারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের সংগঠনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তুরাগ নদকে লিভিং এনটিটি ঘোষণা করা হলেও পরে দেশের সব নদ–নদীর ক্ষেত্রে এই রায় বহাল রাখা হয়। এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে নদ-নদীর মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, যা জীবন্তসত্তা হিসেবে একজন মানুষ সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করে থাকে। আদালতের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের নদ-নদীগুলো এখন থেকে প্রাণী যেমন কিছু আইনগত অধিকার ভোগ করে; তেমনি অধিকার নদ-নদীও ভোগ করবে। নদ-নদীর প্রতিনিধি হয়ে কেউ আদালতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জানালে নদ-নদী প্রতিকার পাবে। বিশ্বব্যাপী নদীর আইনগত সত্তা ধারণার সূচনা হয়েছে কলম্বিয়ার আদালতের একটি রায় থেকে। নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ বিশেষ নদীকে লিগ্যাল পারসন ঘোষণা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজ্য আদালত থেকে নর্মদা নদীকে লিভিং এনটিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

চলনবিলের অনেক নদ-নদীতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মূলত নদ-নদীর নাব্য বৃদ্ধি, সেচকাজ আর মাছের প্রজননের জন্যই নদ-নদী খনন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ড্রেজিং নিয়ানুসারে হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নদ-নদী খনন সঠিকভাবে না হলে এর কোনো সুফলই পাবে না চলনবিলের প্রান্তিক মানুষ। তাই নদ-নদীগুলো রক্ষার জন্য সুশীল সমাজসহ স্থানীয় পৌরসভা, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী রক্ষা কমিশন একক অথবা যৌথ ভূমিকা রাখলে চলনবিলের নদ-নদীগুলো ফিরে পেতে পারে তার হারানো রূপ। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় রক্ষার অভিভাবক। নদ-নদীগুলোকে জুরিসটিক পারসন হিসেবে ঘোষণা করার পর নদ-নদী রক্ষায় আদালতেরও ভূমিকা বেড়েছে। চলনবিলের নদ-নদীগুলোর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দূষণ-দখল প্রতিরোধ করাসহ কলকারখানার বর্জ্য যেন নদ–নদীর পানিতে না মিশতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।
লেখক: গল্পকার ও কবি

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন