বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রবণতা এটিকে অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা পর্যায়ে সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। চট্টগ্রামে আরাকানি মঘিদের প্রভাব লক্ষণীয় ছিল। সে সময় এখানকার রাজারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী হওয়ায় তার প্রভাবও রয়েছে যথেষ্ট।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের মানুষ আতিথেয়তার জন্য দেশবিখ্যাত। এখানকার মেজবানি স্বাদ পাওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে এবং মানুষ তাদের ভালোমন্দ আপ্যায়নও করে। মেজবানে বিনা মূল্যে হাজারো মানুষের আতিথেয়তা সত্যি নজিরবিহীন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কালাভুনা বর্তমানে দেশের সর্বত্র একটি জনপ্রিয় রেসিপিতে পরিণত হয়েছে। ভোজনবিলাসী চট্টগ্রামের মানুষের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই থাকে নানা পদের খাবার আয়োজন। আবার দেশের সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয়ের তালিকার ওপরেও রয়েছে এখানকার লোকজন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবকে বলা হয় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী। আঞ্চলিক গান, মাইজভান্ডারি গান, কবিগান চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহ্য।

মধ্যযুগের মহাকবি আলাওল, শাহ মুহাম্মদ সগীর থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের আবুল ফজল, আহমদ ছফার মতো চট্টগ্রামের বরেণ্য কবি, লেখক তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে এখনো মানুষের মধ্যে জীবিত রয়েছেন।

দর্শনীয় স্থান

পাহাড়, নদী, সমুদ্র এবং উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য প্রাচ্যের রানি হিসেবে খ্যাত। এখানে দেশের সর্ববৃহৎ বন্দর ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। চট্টগ্রামের আঞ্চলিকতার ক্ষেত্রে এই জায়গাগুলোর প্রভাবও রয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, পারকি সমুদ্রসৈকত, নেভাল একাডেমি, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মহামায়া লেক, ফয়’স লেক, ওয়ার সিমেট্রি, চট্টগ্রাম মিলিটারি ক্যাম্প ও পাশে ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ আরও অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তবে আঞ্চলিকতা চর্চায় যে স্থানটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে, তা হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। শহর থেকে খানিকটা দূরে হওয়ায় মানুষ এখানে আঞ্চলিকতা চর্চায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

তা সত্ত্বেও পরিতাপের বিষয় হলো কিছু মানুষ বর্তমানে এই আঞ্চলিকতা চর্চাকে সেকেলে মনে করে। যার দরুন শত বছরের ঐতিহ্য চট্টগ্রামের ভাষা, সংস্কৃতি সংকটময় মুহূর্তে রয়েছে। চট্টগ্রামের ভাষা নিয়ে মানুষের অভিযোগ তো রয়েছেই। যুগের পর যুগ মানুষ চট্টগ্রাম থেকেও এই ভাষা আয়ত্ত করতে পারে না। এ ভাষা জন্ম থেকে আয়ত্ত করতে হয়। যে যা-ই বলুক না কেন, এটিই এখানকার মায়ের ভাষা। বেঁচে থাকুক চাটগাঁইয়া ভাষা অনন্তকাল।

*লেখক: রিফাত হোসেন, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন