default-image

আমাদের গ্রামের আশপাশে মোটামুটি সব রাস্তা পাকা। উন্নয়নের ছোঁয়া শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, এসব তাঁর উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে আমি মনে করি। যদিও কিছু রাস্তা পাকা হওয়া এখনো বাকি রয়ে গেছে। তবে শুধু পাকা রাস্তা দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্রটা তুলে ধরা কঠিন, সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের চিত্রটা কেমন, তা নিরূপণ করা। তাহলে উন্নয়ন সম্পর্কে আসল ধারণাটা চলে আসবে।

আমি হাইওয়েতে চলাচল করার সুবাদে একটা ব্যাপার খেয়াল করতে পেরেছি, এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে, যেখানে গতি নিরোধক নির্মাণ করা খুবই জরুরি ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের গতি নিরোধক নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে পথচারীদের। এ রকম খবর সচরাচর গণমাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

আমাদের গ্রামের আশপাশের যে রাস্তাগুলোর কথা বলছিলাম, ওই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে অনেকের বাড়ির সামনে, গুরুত্বপূর্ণ স্থান নয় এমন জায়গাতেও গতি নিরোধক নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। আমার ধারণা, রাস্তা নির্মাণের সময় যাদের বাড়ির সামনে কাজ হয়েছে, তাদের বাড়ির কোনো সদস্যের দ্বারা বাড়ির সামনে গতি নিরোধক নির্মাণে ঠিকাদারকে কোনোভাবে হোক চাপ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার উপায় না পেয়ে তাদের আবদার মিটিয়েছে। আবদার মেটালে ঠিকাদারের ক্ষতি নেই। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় বাংলাদেশে।

সেই দেশের ঠিকাদারের সামান্য গতি নিরোধক নির্মাণে আর্থিক কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা একদমই নেই। কিন্তু রাস্তার অবস্থা কতটা নাজুক, তা হয়তো আপনাদের অজানা থাকার কথা নয়।

রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতি নিরোধক নির্মাণ খুব ভালো কাজ। আরও ভালো কাজ হয়, নিজে সচেতন হওয়া। আমরা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির সামনে যত্রতত্র গতি নিরোধক নির্মাণ করার চিন্তা করলেও ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যানবাহনচালকদের নিরাপত্তার কথা একটুও চিন্তা করছি না। বাড়ির সামনে এই গতি নিরোধক নির্মাণের মতো জ্ঞান আমাদের থাকলেও গতি নিরোধক চিহ্নিত করতে কোনো ধরনের রং না করায় গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা চালকদের পড়তে হয় বিপাকে। গাড়ি চলতে চলতে কখন যে সামনে গতি নিরোধক এসে যায়, খেয়াল করার উপায় থাকে না। কাছাকাছি এসে ব্রেক কষলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই যত্রতত্র গতি নিরোধক নির্মাণের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, নিজেদের নিরাপদ রাখতে গিয়ে যাতে যানবাহনচালকদের কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়, এটাও ভাবতে হবে।

আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায়। রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে, গাড়ির সামনে দিয়েই তারা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের মতো দুঃসাহসিকতা দেখাবে। দেখা যাবে চলন্ত কোনো যানবাহনের সামনে এসে দৌড় দেবে। যানবাহনকে উপেক্ষা করে রাস্তা পারাপারের এই যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, রাস্তা পারাপারের সময় তাদের দেখলে মনে হবে তারা কত সময়নিষ্ঠ! কিন্তু আদতে তারা কতটা সময়নিষ্ঠ, প্রশ্ন রয়েই যায়। শুধু রাস্তা পারাপারের সময়েই তাদের সময়নিষ্ঠ ভাব চেহারায় প্রতিফলিত হয়। ফলাফল, গুরুতর আহত কিংবা জীবনের ইতি। অনেকে আবার শেষ হয় পঙ্গুত্ব বরণ করে। এই যে পঙ্গুর সঙ্গে বরণ শব্দটা ব্যবহার করা হলো, এই ক্ষেত্রে এই শব্দের ব্যবহার একদম যথার্থই বলে মনে করি। পঙ্গুত্ব বরণ বা মৃত্যুবরণ কেউ করে না। কিন্তু কেউ যখন গাড়ি আসা দেখে দৌড়ে রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে মারা যায়, পঙ্গু হয়, তাদের ক্ষেত্রে পঙ্গুত্ব বরণ, মৃত্যুবরণ শব্দগুলোর ব্যবহার যথার্থ বলাটা কি খুব অন্যায় হয়ে যাবে?

দিন শেষে সড়কে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের প্রতিবাদের ভাষা জেগে উঠবে, যানবাহনের চালকেরা খারাপ, যানবাহনের চালকদের জন্য দুর্ঘটনা ঘটে এবং ভাঙা হবে যানবাহন। কিন্তু পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে, সাধারণ পথচারীদের অসাবধানতার ফলাফলও কম না। তাই আসুন নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন থাকি, নিরাপদ সড়ক গড়ি।

লেখক: শাহরিয়ার সিফাত, শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

বিজ্ঞাপন
নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন