বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমি বেসরকারি চাকরি করতাম, প্রায় পাঁচ বছর চাকরি করলাম। মালিকপক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে আমরা একটা অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যাই। রিস্ক নিয়ে চাকরি ছেড়ে দিলাম। এক বছরের একটু বেশি ছিল বয়স ৩০ হতে। অন্য বেসরকারি চাকরির চেষ্টা না করে সরকারি চাকরির জন্য পড়া শুরু করলাম, আর্থিক কিছুটা সচ্ছলতা ছিল বলে। ইতিমধ্যে করোনার হানা, করোনার মধ্যেই চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ। যে কয়টা আবেদন করতে পেরেছি, তার বেশির ভাগ পরীক্ষাই এখনো দিতে পারলাম না। এখন আর ব্যাংকে চাকরির সার্কুলারে আবেদন করতে পারছি না, বয়স বিবেচনার কথা থাকলেও মানা হচ্ছে না বলে। অল্পসংখ্যক যে আবেদন করতে পেরেছি, তাতে চাকরি না হলেই স্বপ্ন শেষ। আমার মতো লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্নই দোদুল্যমান। খেলা শুরু না করতেই কিছু গোল হজম করে বসে আছি, শুধু মহামারির কারণে।

default-image

বয়স বাড়ানোর পক্ষে কত যুক্তিই তো দেওয়া যায়, অন্যান্য দেশে আরও বেশি বয়সে নেওয়া হয়, অবসরের বয়স বৃদ্ধি, গড় আয়ু বৃদ্ধি, অনেক কিছু আছে। আমি সেদিকে না-ইবা গেলাম। করোনা আমদের জীবন থেকে যে বয়সটা কেড়ে নিল, সেটার জন্য বয়স বাড়ানোর আবেদন কি যুক্তিযুক্ত নয়? জাতির জনকের কন্যা যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে, এমন দূরদর্শী নেতৃত্বের কাছে এ আবেদন কি অযৌক্তিক হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী, আপনিই তো দেশের মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। মধ্যম আয়ের দেশ বানালেন, উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন তো আপনিই দেখালেন। আপনার কাছেই আবেদন, দিনের পর দিন পরিশ্রম করতে থাকা লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের স্বপ্নটাকে আরও কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সটা ৩৫ করে দিন। এ দেশের মানুষের জন্য আপনার অবদানের মুকুটে আরও একটি সোনালি পালক যুক্ত হোক।

*মাহাসুক, (ছদ্মনাম) সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন