default-image

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ মানুষ মারা গেছে, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১০ কোটি মানুষ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, তারপর ব্রাজিল, মৃত্যুর তৃতীয় স্থানে ভারত। বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে, সংক্রমণ ৫ লাখের ওপর। করোনা মোকাবিলায় আমরা প্রশ্নমুক্ত থাকতে না পারলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বিচারে খুবই কম এবং নিম্নগামী, যদিও একটি মৃত্যুও কাম্য নয়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রতি শতাব্দীতে কোনো না কোনো প্রাণঘাতী রোগে পৃথিবী আক্রান্ত হয়, সেটা কখনো অঞ্চলভিত্তিক, কখনো বিশ্বব্যাপী। লাখো মানুষের মৃত্যুপরোয়ানায় সভ্যতা পড়ে হুমকির মুখে। লড়াকু মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, রক্ষা পায় সভ্যতা, রক্ষা পায় পৃথিবী এবং তার মানবজাতি।

বিজ্ঞাপন

মানুষকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় তার চারপাশের বৈরী পরিবেশের সঙ্গে; একই সঙ্গে মানববিনাশী কোনো না কোনো রোগবালাই প্রতিরোধে। বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ করছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে। মাত্র নয় মাসের মধ্যে কোভিড-১৯-এর টিকা আবিষ্কার, বাজারজাত ও প্রয়োগ হচ্ছে বিশেষ বিশেষ দেশে বা অঞ্চলে। বিষয়টি যেমন আশা-জাগানিয়া, তেমনি শঙ্কার জায়গাটি প্রকট ও প্রবল।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, এর আগে আবিষ্কৃত সব টিকা আবিষ্কারসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করতে কম করে সময় নিয়েছে চার থেকে পাঁচ বছর। কোনো কোনোটি নিয়েছে আরও অধিক সময়। ক্যানসারের মতো অনেক জীবনঘাতী রোগের টিকা আজও আবিষ্কার হয়নি। অথচ করোনার মতো অতিমারি রোগের টিকা মাত্র নয় মাসে আবিষ্কার হয়ে প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগ হচ্ছে। কেউ জানে না টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

তড়িঘড়ি করে টিকা বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়াকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখছেন, কেউ দেখছেন কূটনীতি, কেউ বাণিজ্য, আবার দুটি একত্রে মিলিয়ে মনের আস্বাদ নিচ্ছেন—এমন লোকের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। মানবিকভাবে যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁরাও শঙ্কামুক্ত নন। তাঁরা মনে করছেন, করোনার এ ভয়াবহ সংক্রমণকালে কেউ যদি ব্যবসায়িক মুনাফার আশায় ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদি যাচাই প্রক্রিয়াকে অবহেলা করে, তবে তা হবে মানবজাতির প্রতি নির্দয়-নিষ্ঠুর আচরণ।

কল্যাণমুখী সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনকে সুরক্ষা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই অধিক সংক্রমিত দেশে নাগরিকের জীবন বাঁচাতে টিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের মতো স্বল্প সংক্রমণ ও কম মৃত্যুর দেশগুলোকে টিকা প্রয়োগে অধিক সতর্ক থাকা দরকার। ইতিমধ্যে ভারত থেকে উপহার হিসেবে ২০ লাখ টিকা দেশে এসেছে।

অচিরেই টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা, শোনা যাচ্ছে পরীক্ষামূলক কিছু টিকা প্রয়োগের পর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করার জন্য এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হবে, যেহেতু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে যাচাই করেনি, তাই এক সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করা দরকার বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফা টিকা প্রয়োগের পর নিরাপত্তা যাচাই করা দরকার।

করোনা প্রতিরোধে টিকা যতই গুরুত্ব বহন করুক, শারীরিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারকে অবশ্য প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা জানি, টিকা এখন শুধু জীবন রক্ষা ‘দাওয়াই’ নয়, জীবনমান বৃদ্ধির একটি মোক্ষম পন্থাও বটে। এত দিন করোনা নিয়ে যারা ব্যবসা করেছে, আজ টিকার সুবাদে তাদের গুরুজনদের ব্যবসা হবে রমরমা। বিশ্বব্যাপী টিকা আবিষ্কার-অনাবিষ্কার, গ্রহণ-বর্জন এক গোলকধাঁধা! অদূর ভবিষ্যতে এ গোলকধাঁধা বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

* লেখক: শেখ জহির উদ্দিন, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ

বিজ্ঞাপন
নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন