default-image

সন্ধ্যা নামার ঠিক পরমুহূর্তে তথ্য সংগ্রহ বুথ থেকে মাইকে ঘোষণা এখন আর কাউকে মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না! ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ছয়টা আর মিনিট ত্রিশেক পরই যে বন্ধ হয়ে যাবে বহুল কাঙ্ক্ষত অমর একুশে গ্রন্থমেলা। যেখানে মানুষ মেলায় আসেনই সন্ধ্যার পর, সেখানে এমন ঘোষণা দেওয়া মানে যেন এই মেলার আর কিছুই না থাকা।

ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে মার্চ, সেই মার্চের গোটা দিনেক ১৫ পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস পর গত ১৮ মার্চ পর্দা উঠেছে অমর একুশে বইমেলার। কিন্তু সেই মেলার ১০–১২ দিন যেতে না যেতেই যেন আবার হানা দিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মেলা পরিদর্শনের সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। নতুন সূচি অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রাত্যহিক বইমেলা শুরু হবে বেলা তিনটায় এবং শেষ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। সেই হিসাবেই সন্ধ্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় মেলার প্রবেশপথ। এদিকে তিনটায় মেলার প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হলেও তখন কোনো ভিড় পাওয়া যায়নি মেলা প্রাঙ্গণে। কারণ, সাধারণত প্রতিবছর সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি জমে ওঠে মেলা, এ সময়টাতেই জমে ওঠে বইমেলা। এ সময়ে স্টলে স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়, কিন্তু এবার যেন ঠিক তার উল্টো সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা আসে মেলা বন্ধের। যার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেলায় আসা দর্শনার্থী, প্রকাশক ও লেখকেরা।

বিজ্ঞাপন

অনেক বড় জায়গা নিয়ে এবারের বইমেলা আয়োজন করলেও পাঠক তেমন একটা নেই বললেই চলে। এ ছাড়া লেখকদের আনাগোনাও যেন কমেছে এবারের বইমেলায়। যেখানে প্রতিবছর মেলার পুরো সময় স্টলে স্টলে লেখকদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, এবার তেমন একটা নেই বললেই চলে। কয়েকটি স্টল ঘুরে মাঝে মাঝে লেখকদের দেখা মেলে, তা–ও আবার ছুটির দিন বা বিশেষ দিনে। এ ছাড়া লেখকদের তেমন আনাগোনা নেই বললেই চলে।

default-image

মেলায় বই কিনতে আসা এক তরুণ মামুন সোহাগ, যে কিনা বছর দুয়েক আগে প্রায় দিনই যেতেন বইমেলায়, কিন্তু এবার বইমেলার ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও মাত্র একবারই এসেছেন তিনি। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেন, ‘দুবছর আগে বেশ কয়েকবার বইমেলাতে গিয়েছি। বলতে গেলে প্রতিদিনই। তখন পৃথিবীতে করোনা ছিল না।

default-image

বাসভাড়া দ্বিগুণ ছিল না। মন চাইলেই ভাষার পুরো মাসের যেকোনো দিন মেলায় ছুটেছি। প্রিয় কত লেখককে দেখেছি। ছবি তুলেছি, গল্প করেছি। বই কিনেছি। আর এ বছর আজ প্রথম মেলায় এলাম। মেলা চলছে ঠিকই কিন্তু কোথায় যেন কিছু একটা নেই। ঢুকেই একরাশ শূন্যতা, একেকটা স্টল একেক জায়গায়। এ যেন প্রাণহীন এক বইমেলা! খাঁ খাঁ করছে দশনার্থী শূন্যতায়। শুধু দশনার্থী না, আগের মতো লেখকদেরও দেখা মেলে না মেলা প্রাঙ্গণে। সবার মুখে মাস্ক। না, এমন তো কখনো চাইনি!’

*লেখক: বিনায়েক রহমান কীর্তি, সরকারি তিতুমীর কলেজ

**নাগরিক সংবাদে লেখা পাঠাতে পারেন [email protected]-এ

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন