বিজ্ঞাপন

প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার পরপরই বাড়িতে আসা। দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পর যাওয়ার আগেই কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের কারণে কলেজ বন্ধ হয়ে যায়।

অনেকটা সময় পর দীর্ঘদিনের জন্য বাড়িতে থাকার সুযোগ পাই। সব নাতি-নাতনির মধ্যে আমিই বুজির শেষ বয়সের সঙ্গী। প্রায় ১০ বছর যাবৎ পা ভাঙার পর থেকে তিনি বিছানায়। নিজের কাজ নিজে করতে পারেন না, নিজের হাতে খেতেও পারেন না। তার বয়স প্রায় ১০৪-১০৫। ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। দূরে থেকে পড়াশোনা করার কারণে ছুটি পেলেই কেবল বাড়িতে যাওয়া হতো। অনেক দিনের জন্য আমাকে পেয়ে তিনি খুব খুশি হন। এই মহামারির মধ্যেও আমাদের দুটি ঈদ একসঙ্গে খুব ভালো কাটে। ভালো সময়ের পরই আসে খারাপ কিছু সময়।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর ঠিক আমার জন্মদিনের পরের দিনই বুজি সবাইকে ফেলে চলে যান না-ফেরার দেশে। তাকে ছাড়া একটা ঈদ কাটিয়েছি, আবারও আসছে ঈদ। ঈদে সবাই বাড়ি ফিরলেও তিনি আর ফিরবেন না।

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এইটুকুই আমার প্রাপ্তি। আমি বুজির শেষ সময়ে তাঁর পাশে ছিলাম। ঘরবন্দী ওই দুটি ঈদ ছিল তার জীবনের শেষ ঈদ।

এমনই হাজারো মানুষ, হাজারো পরিবার নিজের আপন মানুষগুলোকে ছাড়া ঈদ কাটাচ্ছে, কাটাবে। কোভিড-১৯ মহামারি কারও আপনজন কেড়ে নিয়েছে, কারও নিয়েছে চাকরি, কারোর বা বন্ধ হয়েছে রোজগারের সুযোগ। ঘরবন্দী ঈদগুলো খুব কম মানুষেরই ভালো কাটছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের ঈদগুলো আগের মতো নতুন জামাকাপড়, ভালো খাবার, অনেক খুশি নিয়ে আসে না। সেই সব হাজারো বাবার গল্প না জানাই থেকে যায়, যারা শুধু কয়েকটা টাকার জন্য তার মেয়েকে ঈদের নতুন একটা জামা দিতে পারে না। পারে না সবার জন্য ভালো খাবারের জোগাড় করতে। তবু সবার আপনজনকে নিয়ে ঈদগুলো ভালো কাটুক।

মহামারির এই প্রকোপ থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করুক, এটাই প্রত্যাশা। পরবর্তী বছরগুলোতে কোনো উৎকণ্ঠা কিংবা ভয় নিয়ে নয়, বরং ঈদের আমেজ যেন থাকে বরাবরের মতোই রঙিন। এক কাতারে দাঁড়িয়ে সবাই যেন ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে।

*লেখক: জান্নাতুল তাজমিন চৈতি, শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন