default-image

পরীক্ষা ছাড়াই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের এইচএসসির মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারব, যদি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি না-ই হতো, তবে এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার মূল্যায়ন না করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যা কিনা জীবনকে একটি অনিশ্চিত পৃথিবীর সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে বেঁচে থাকাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সরকার কখনোই সেই অনিশ্চিত চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিতে পারে না এবং এটিও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে। অতএব, এই সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার উপায় ছিল বলে মনে হয় না। বিষয়গুলো জানেন না কিংবা বোঝেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তবুও ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অটো পাস নিয়ে কেন এত নেতিবাচক আলোচনা, সেটি ভাবার বিষয়। তাহলে কি আমাদের কাছে জীবনের মূল্য কমে গিয়েছে? অবশ্য আপাতদৃষ্টিতে কমে গিয়েছে বললে ভুল হবে না।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, জীবনের মায়া ছেড়ে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। বেঁচে থেকে জীবনযুদ্ধে জয় অর্জন করাটা মানসিক শক্তির ব্যাপার। বলা যায়, জীবনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মানসিক শক্তিও লোপ পেয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার যুক্তি দেখিয়ে এই দায় এড়াতে পারলেও কোনো ব্যক্তি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না পেরে কোনো ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে সেই দুর্ঘটনার দায় আপনি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।

এ মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলার জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চারপাশের কিছু মানুষ দায়ী বলে আমি মনে করি। আমরা দেখেছি, কতিপয় মানুষ একপ্রকার ভাবতে বাধ্য করে ফেলেন, জিপিএ ৫ বা এ+ না পেলে জীবনের সবকিছু সেখানেই শেষ। অথবা অটো পাসের বছরে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করায় এর কোনো দাম নেই। তাই মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষার্থীর কোনো ভুল সিদ্ধান্ত তার জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে, তার জন্য দায়ী চারপাশের নেতিবাচক মনের মানুষগুলোই।

বিজ্ঞাপন

একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। রাগের মাথায় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার স্বভাব আছে অনেকের। অনেকে আবার শখের মুঠোফোনটা ছুড়ে মেরে বসেন। কিছুক্ষণ পর ঠিকই অনুতপ্তবোধ আসে। অনুভব করেন, শখের মুঠোফোনটা ভেঙে নিজেরই ক্ষতি করে বসলাম।

অটো পাস একটি প্রক্রিয়া এবং রীতিমতো বাধ্য না হলে সরকার এই সিদ্ধান্ত কখনোই গ্রহণ করত না। অতএব, নিরুৎসাহের উচ্ছ্বাসে না মেতে উৎসাহ দিন। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন। খেয়াল রাখবেন, আপনার বাগ্‌যন্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দ এবং সেই গুটিকয়েক শব্দের সমষ্টিতে সৃষ্ট বাক্য যেন কারও হতাশার কারণ না হয়। আপনার কটূক্তি বা তাচ্ছিল্য যেন মাঝরাতে কাউকে মূল্যহীন বা তুচ্ছ ভেবে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে। অটো পাস শব্দটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার না করে মেনে নিন, পরীক্ষা না দেওয়া শিক্ষার্থীরা শুধুই পরিস্থিতির শিকার। তাই অটো পাস বলে শিক্ষার্থীদের তিরস্কার নয়, বরং তাঁদের অনুপ্রেরণা দেওয়াটাই সময়ের দাবি।

*লেখক: মো. খশরু, শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন