বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অপরাজনীতির রোষানলে এক মেধাবীপ্রাণ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সুস্থধারার রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর, কিন্তু অপরাজনীতি একটি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের পথে বড় ধরনের অন্তরায়। আজকাল আমাদের দেশের ছাত্ররাজনীতি মোটেও রাজনীতি নয়। ছাত্ররাজনীতির নামে চলছে সহিংস অপরাজনীতি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাই, দেখব দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতি কী অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে নব্বইর দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কিন্তু তার পর থেকে ছাত্ররাজনীতির রূপ এতটাই খারাপ হতে চলেছে যে আমরা প্রায় এখন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা দেখতে পাই। ছাত্ররাজনীতি কেন দিন দিন তার গৌরব হারাতে বসেছে। এর নেপথ্যে কী? অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, করতে হবে সুস্থধারার রাজনীতির চর্চা। তাহলেই আবার গৌরবোজ্জ্বল হয়ে উঠবে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস।

তরুণ প্রজন্ম একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। এ তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিকতা, পরিচর্যা ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে একটা জাতি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতি অগ্রগতি। মেধাবী জনগোষ্ঠী একটি রাষ্ট্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু সেখানে মেধাবী হওয়া যখন নিজের ও পরিবারের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে আর বাকি থাকে না সে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের কাছে বড় দৃষ্টান্ত।

দেশের নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বপ্নপূরণ করতে এসে দেশ ও জাতির গর্বের বিষয় হতে এসে মেধাবীরা এখানে হামলার শিকার হন, অনেকে শেষ পর্যন্ত অকালেই চলে যান না-ফেরার দেশে। তখন রাষ্ট্র হারায় তার ভবিষ্যৎ সূর্যসন্তানদের। মেধাবী হয়ে জন্ম নেওয়াটা এখন অনেকের ক্ষেত্রে আজন্ম পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের দূরদূরান্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই হলে থেকেই শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, হলে থাকতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অপরাজনীতির ঘেরাটোপে আটকা পড়েন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, অপরাজনীতিমুক্ত হোক দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচর্যা করুক তার ভবিষ্যৎ কান্ডারিদের। আর এটা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্বও বটে। অপরাজনীতির রোষানলের শিকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মাহাদি আকিবের মতো এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না।

*লেখক: ইমরান ইমন, শিক্ষার্থী

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন