বিজ্ঞাপন

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো এক অফিসে গেলে এক পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদককে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনা কতটা অমানবিক হতে পারে, ভেবে দেখছেন কি? ওই সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা উচিত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছি। একজন সাংবাদিককে পেশাগত কাজের সময় এভাবে আটক করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এটা চিন্তা করতেও লজ্জা ও ঘৃণা হচ্ছে যে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার অফিসকক্ষে একজন নারী সাংবাদিককে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এটি একটি চরমতম অপরাধ বলে মনে করছি।

default-image

দেশরত্ন শেখ হাসিনা খুব কষ্ট করে এবং প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দেশকে উন্নয়নের জন্য। আর সেখানে উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেয় মাঝেমধ্যে, তাই এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর হওয়া উচিত, যাতে তাঁরা আইনের বিচার থেকে রেহাই না পান। কারণ, যেভাবে এক নারী অন্য এক নারী সাংবাদিককে গলা চেপে ধরেছে, তা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এ রকম অন্যায় শুধু এখানে নয়, সারা দেশেই সব ক্ষেত্রে এসব কর্মকর্তার কালো হাত চেপে বসছে, যা থেকে রাষ্ট্রকে বের করে আনতে হবে। যদিও অনেক কর্মকর্তা ভালো রয়েছেন, কিন্তু দু–একজনের জন্য সবার সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তাই দেরি না করে সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। যদি এসব কারণে সাংবাদিকেরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, দেশ ও জাতির বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ, তাঁদের মাধমে সমাজের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তথ্য আমরা জানতে পারি, সরকার জানতে পারে এবং সেই অনুযায়ী দেশের স্বার্থে সরকার কাজ করতে পারে। তাই রাষ্ট্রকে সাংবাদিকের পাশে থাকা উচিত বলে মনে করছি। সত্য লেখার কলম ভেঙে গেলে তখন জাতির দর্পণ সঠিক পথে চলতে পারে না। তাই সত্যকে লেখতে এ ঘটনার রহস্য বের করা উচিত এবং সত্যকে লেখার জন্য সাংবাদিকদের উৎসাহিত করা উচিত। তাহলে দেশ ও জাতি অনেক উপকৃত হবে।

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ বলেছে, বিষয়টির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে দেশ-জাতি উপকৃত হবে বলে মনে করেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিবিশেষের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক, এটা জাতি কোনোভাবে প্রত্যাশা করে না। জাতি চায় রাষ্ট্রের প্রতিটি দপ্তর ও বিভাগ স্বচ্ছভাবে কাজ করুক, যাতে দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়। অর্থাৎ আমরা যেন বিশ্বদরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, সে বিষয়ে সরকারের প্রত্যেক কর্মচারীকে কাজ করা উচিত বলে মনে করছি।

একজন নারী সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনকালে যেভাবে সচিবালয়ে আটকে রেখে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা হেনস্তার পর অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মধ্যরাতে আটক করা হয়েছে, তা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কাম্য নয়। এ ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী তাঁর পত্রিকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা দুর্নীতি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি খবর ‘এখন কোটি দেব, পরে আরও দেব’ দেশের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত আলোড়ন তুলেছিল। অনেকেরই ধারণা, তাঁকে সচিবালয়ে হেনস্তা ও মামলায় বন্দী করার পেছনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষোভ যে কাজ করছিল, তা অনেকেই বুঝতে পারে। আমার বিশ্বাস, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে নজর দেবে এবং আদালত বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন। যাঁরা দুর্নীতি ও সাংবাদিক নির্যাতনের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন, সরকারের উচিত হবে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, যাতে আর অন্য কোনো সময় এ ধরনের দুঃসাহস না দেখান তাঁরা।

default-image

অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বহু পুরোনো আইন। ১৯২৩ সালে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার এ আইনের মাধ্যমে লুণ্ঠনকর্ম গোপন রাখা এবং দেশীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শায়েস্তা করার কাজে ব্যবহার করত। এখন তো আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বসবাস করছি এবং দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ওই আইনে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে, তা না হলে এভাবে সরকারের অনেক কর্মচারী দুর্নীতি করতে উৎসাহিত হবে এবং তথ্য অধিকার আইন বাধাগ্রস্ত হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তাকারীদের বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে প্রকৃত ঘটনার রহস্য বের করা উচিত। রোজিনাকে যেভাবে গ্রেপ্তার, হেনেস্তা ও নিপীড়ন করেছে, তা দেশের সংবিধান ও স্বাধীনতার চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এ ক্ষেত্রে কার্যকর করা একান্ত প্রয়োজন।

লেখক: মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি, শিক্ষক সমিতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন