বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় প্রবাসী পরিবার মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মো. আশরাফ আলী সরকার, আবদুল মালেক, জহিরুল ইসলাম এবং প্রবাসী ঐক্য সমাজসেবা সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, মাহবুবুর রশীদ, জামিল আজিজ, সিফাত নিয়নসহ ইউপি সদস্য শাহজাহান আকন্দ, আলেপ মিয়া, ইসমত আরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী পরিবার মানবিক সংগঠন রমিছা খাতুন নামের আরও এক হতদরিদ্র নারীকে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা করেন।

default-image

এদিকে গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তি আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আমেনা খাতুনের জন্য। সহায়তা করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং আরেকজন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বলে তাঁরা জানান। আর্থিক সহায়তার ৯ হাজার টাকা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের কালারচর গ্রামে আমেনা খাতুনের নিজ বাড়িতে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর মেয়ে ফাতেমার উপস্থিতিতে আমেনা খাতুনের হাতে এ অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হাতের চিকিৎসার জন্য টাকা হাতে পেয়ে অসুস্থ আমেনা খাতুনের পরিবারের মুখে অনাবিল হাসি ফুটে ওঠে মুহূর্তেই।

এ সময় সহায়তার টাকা হাতে পেয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আমেনা খাতুন। আমেনা খাতুন জানান, ‘জীবনে সুখ কী জিনিস, কোনো দিন বুঝলাম না বাবা। আমার স্বামী দুই বিয়া করনে সতীনের চোক্কের (চোখের) কাঁটা হইয়া যাই আমি। গেরামে গেরামে সারা জীবন ভিক্ষা কইরা দুইডা মেয়ারে বড় কইরা বিয়া দিছি। এক মেয়া রহিমা ঢাহা থাহে, আমার কথা মনেও করে না। আরেক মেয়া ফাতেমার জামাই তারে তালাক দেওনের পর পোলাপান লইয়া আমার লগে থাহে। অহন বুড়া হইছি, তাই এই মেয়াডা ভিক্ষা কইরা আমারে খাওয়ায়। যেই দুই বাপধন আমার চিকিৎসার লইগা টেকা (৯ হাজার) দিছে, আর বিদেশে থাহা বাবারা টেকা (১৩ হাজার) দিছে আল্লায় তাগরে সুখে–শান্তিতে রাহুক, তাগর সন্তানগর বেবাগ বালামসিবত আল্লায় মাফ করব, আমি দোয়া করি।’
আমেনা খাতুনের বড় মেয়ে ফাতেমা বলেন, ‘প্রথম আলো পত্রিকারে ধন্যবাদ। আমার মায়ের খবর তারা ছাপাইছে। যারা আমার মার খবর হুইনা টেকা পাঠাইছে, তাগর জন্য দোয়া করি, আল্লায় তাগরে আরও উন্নতি করুক, ভালো থাহুক তারা। এই টেকা দিয়া আমার মায়ের চিকিৎসা শুরু করমু। জানি না কত টাকা লাগব। অন্তত চিকিৎসাডা তো শুরু করতে পারমু, বাহিডা আল্লাহ ভরসা।’

এ বিষয়ে পুটিজানা ইউপির চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার বলেন, ‘হতদরিদ্র আমেনা খাতুনের খোঁজখবর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব সময় আমরা নিয়ে আসছি। তাঁকে সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছে, দুটো ছাগল দেওয়া হয়েছে, এ ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আমরা তাঁকে সব সময় দিয়ে থাকি। তারপরও প্রবাসী সংগঠনগুলো আর্তমানবতার সেবায় তাঁকে সহায়তা করছে, এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই কার্যক্রম তারা আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করুক, অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াক, এই কামনাই করি।’

default-image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের কালারচরে বাড়ি বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৯০–ঊর্ধ্ব আমেনা খাতুনের। তাঁর স্বামী মোসলেম ফকির আরেকটি বিয়ে করে মারা গেছেন বহু দিন আগে। রহিমা ও ফাতেমা নামের দুই মেয়ে আছে আমেনার। সতিনের সংসারে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অবশেষে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে সন্তানদের মানুষ করেছেন আমেনা খাতুন।

এক মেয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন, সেখানেই বিয়ে করে স্বামী–সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। আরেক মেয়ে ফাতেমাকে তাঁর স্বামী তালাক দেওয়ার পর মায়ের সঙ্গে থাকেন। কোনো জমিজমা না থাকায় অভাবের সংসারে মাকে খাওয়াতে মেয়েও ভিক্ষা করেন। সম্প্রতি ঘুম থেকে উঠে চৌকি থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে ডান হাতটা ভেঙে যায় আমেনা খাতুনের। পাঁচ মাস ধরে হাত ভেঙে পড়ে আছেন বৃদ্ধা আমেনা খাতুন।

লেখক: ইমতিয়াজ আহমেদ

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন