বিজ্ঞাপন

গত বছরের দেশে করোনার সংক্রমণের শুরুর দিকে কর্মহীন হয়ে পড়া ভাসমান মানুষদের জন্য স্থানীয় সমাজকর্মী শাহেদ মুনীম ফয়সাল খাবারের ব্যবস্থা করেন। সে সময়ের বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত ওমর ফারুক বাদশা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তখন টানা ১০০ দিন পুষ্টিমান সম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষের মুখে জুটত সে খাবার।

ওই কর্মসূচির অনুসরণে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভাসমান মানুষের মাঝে সামান্য ইফতার বিতরণের উদ্যোগ নেন এই স্বেচ্ছাব্রতীরা। রমজান মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে চান তাঁরা। তাঁদের এ কার্যক্রম প্রথম থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে স্থানীয় ও তরুণদের মাঝে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছেন অন্যদের।

default-image

ভাসমান ও ছিন্নমূল এ মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি নেই। রেলস্টেশনেই থাকি আমরা। লকডাউনে কাজ করেও খেতে পারছি না। তাঁরা আমাদের প্রতিদিন ইফতার দিচ্ছেন। এর আগেও করোনা মহামারির প্রথমদিকে তাঁরা আমাদের প্রতিদিন খাবার দিয়েছেন। বিভিন্নভাবে আমাদের সাহায্য করেছেন।

‘মানবিক ইফতার’ ইভেন্টের ভলান্টিয়ার পার্টনার ‘সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন’র সাধারণ সম্পাদক ফাহিদা সুলতানা জানান, ক্রমাগত তারল্যসংকট আর লকডাউনে চরম বিপর্যস্ত মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে আনন্দ বোধ করছি। সেবা অন্তঃপ্রাণ কিছু স্বেচ্ছাসেবী পেয়েছি, যা আমাদের আশাবাদী করেছে। সামনের দিনগুলোতে মানবিক কাজে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে।

কর্মসূচির সমন্বয়ক শাহেদ মুনীম ফয়সাল জানান, ‘আমরা যে অনেক কিছু করছি ঠিক তা না। মূলত অন্যরা আমাদের সহযোগিতা করছেন বলেই আমরা আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। সমাজের অন্য বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের কার্যক্রমকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

লেখক: খাদিজা খানম ঊর্মি, শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন