বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেনারসিপল্লি কেবল বেনারসি শাড়ির জন্যই যে বিখ্যাত তা নয়। এখানে বিক্রি হয় বাহারি রঙের জামদানি, লেহেঙ্গা, তাঁতের শাড়ি, সুতির শাড়িসহ নানা ধরনের শাড়ি। শাড়িতে আভিজাত্যের ছোঁয়া নিয়ে আসতে এবং একই সঙ্গে সব শ্রেণীর মানুষের জন্য কেনাকাটা সহজলভ্য করার জন্য বিক্রেতারা ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার লেহেঙ্গা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে থাকেন। সপ্তাহে সাত দিনই এখানে লোকজনের আনাগোনা লক্ষ করা গেলেও শুক্রবারে ভিড় থাকে বেশি। বিক্রেতারা জানান, শুক্রবার কোনো কোনো দোকানে কয়েক লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়ে থাকে।

বেনারসিপল্লি আদিতে এই নামে ছিল না। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর একটিমাত্র দোকান চালুর মাধ্যমে এ ব্যবসা খাতের যাত্রা। যত দূর জানা যায়, বেনারসিপল্লির যাত্রার শুরুটা করেছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারস থেকে আগত জনগোষ্ঠী। যাদের মধ্যে মরহুম হাজি হারুন নামের এক ব্যবসায়ী তাঁর ব্যবসার ভিত্তি গড়ে তোলেন এখানে। যেটি বর্তমানে হাজি হারুন বেনারসি সিল্ক হাউস নামে ব্যবসা করে আসছে। বেনারসিপল্লিতে আসার পূর্বে, পাকিস্তান শাসনামলে পুরান ঢাকায় হাজি হারুনের বাণিজ্য ছিল। তখন অবশ্য ‘ইস্ট পাকিস্তান জোরি সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তাঁরা। পরে ১৯৭২ সালে মিরপুর বেনারসিপল্লি নামে নতুন নতুন বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে এখানে। বর্তমানে ১৭০টির বেশি দোকান রয়েছে এখানে। শুরুর দিকে ওই এলাকা বেনারসিপল্লি হিসেবে পরিচিত না থাকলেও আশির দশকের দিকে এটি ‘বেনারসিপল্লি’ নামে খ্যাতি অর্জন করে।

বেনারসিপল্লির দোকানগুলো অতটা বিলাসবহুল স্থাপত্যে গড়ে ওঠেনি। প্রতিদিন শত শত মানুষের পদতলে পিষ্ট হওয়া এখানকার রাজপথ পিচঢালা হলেও বেশ কয়েক জায়গায় খানাখন্দে ভরপুর। এরপর প্রতিদিনই যেন ক্রেতাদের আগ্রহের কমতি নেই এ পল্লিতে। রীতিমতোই চলছে বিক্রয়ের ধুম।

লেখক: মোহাম্মদ রায়হান, শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন