বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট এবং একই সারিতে রয়েছে ৩টি গম্বুজ। গম্বুজের চারকোনায় রয়েছে চারটি মিনার। সামনে রয়েছে তিনটি দরজা। সদর দরজা ও মাঝের গম্বুজের সামনের দিকে দুই পাশে রয়েছে দুটি ছোট মিনার। মসজিদের ভেতরের অংশে খোদাই করা ফুল, লতাপাতা, কোরআনের আয়াতসংবলিত ক্যালিগ্রাফি তুলির ছোঁয়ায় সুসজ্জিত। এসব খোদাই করা কারুকার্য বিভিন্ন রঙে বিভিন্নভাবে সাজানো। মসজিদটির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ইবাদতে মশগুল ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটায়। এ ধরনের কারুকার্যমণ্ডিত নকশা ইরানের মসজিদ ও প্রাচীন অট্টালিকার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।

default-image

মসজিদের সামনে একটি খোলা জায়গা রয়েছে। খোলা জায়গার এক পাশে রয়েছে সুসজ্জিত পাকা তোরণ। তোরণের উভয় পাশে রয়েছে আকর্ষণীয় নকশা ও খাঁজ করা স্তম্ভ। স্তম্ভের মধ্যে চ্যাপ্টা গম্বুজ তোরণকে অনিন্দ্য রূপ দিয়েছে। সুসজ্জিত গম্বুজের ওপরে ক্ষুদ্র আকৃতির চূড়া তোরণটিকে ১৬ কলা রূপ দিয়েছে। মসজিদটির পাশেই রয়েছে একটি নুরানি মাদ্রাসা। সামনের দিকে রয়েছে প্রাচীন আমলের একটি অব্যবহৃত কূপ। এ ছাড়া তোরণের সামনের দিকে রয়েছে একটি পুকুর। যেখানে দুরন্তপনা শিশু-কিশোরেরাসহ এলাকাবাসী গোসল করতে পারে।

মসজিদটির নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানান ইতিহাস। স্থানীয় লোকজন মনে করেন, মালিক উদ্দিন নামে মির্জাপুর গ্রামেরই এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। মালিক উদ্দিন মির্জাপুর গ্রামও প্রতিষ্ঠা করেন। দোস্ত মোহাম্মদ নামে জনৈক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা অনুযায়ী, মোগল শাসক শাহ সুজার শাসনামলে (১৬৫৬ সাল) মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে পারস্য ভাষায় লিখিত মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে একটি ফলক রয়েছে।

default-image

ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় বলে ধারণা প্রত্নতত্ত্ববিদদের। কেউ মনে করেন, মোগল শাহজাদা আজমের সময়কালে (১৬৭৯ সাল) নির্মিত ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের মসজিদের সঙ্গে মির্জাপুর শাহি মসজিদের নির্মাণশৈলীর সাদৃশ্য রয়েছে। সেই সময়েই মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

এলাকাবাসী জানান, মসজিদটি নির্মাণের দীর্ঘ প্রায় ৩৬৫ বছর পার হলেও কোথাও উল্লেখযোগ্য ত্রুটি চোখে পড়েনি। একসময় প্রবল ভূমিকম্পে মসজিদটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। তখন মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মালিক উদ্দীন মসজিদটি সংস্কারের জন্য ইরান থেকে কারিগর নিয়ে আসেন। তখন থেকে আর সংস্কার হয়নি। বর্তমানে মসজিদটির দেয়ালে ও গম্বুজে কিছুটা ফাটল ধরেছে। এ ছাড়া ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারাও অল্প অল্প খসে পড়েছে।

মির্জাপুর শাহি মসজিদের নিপুণ কারুকার্য, সোন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভ্রমণপিপাসুদের মনের তৃষ্ণা মেটায়। তবে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির স্থানীয় জনগণের দেখাশোনার পাশাপাশি সরকারের দৃষ্টিপাত জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও দর্শনীয় হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক, এটাই কামনা সবার।

*লেখক: আজাহার ইসলাম, শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন