বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১.
তাহিনের মায়ের অসুস্থতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কমার কোনো পাই–পাত্তা নেই! যায় যায় হাল। কখন যেন পাড়ি জমান। মূলত এ জন্যই তাহিনকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা মাথায় আসন গেড়ে বসেছে তাঁর বাবার। যাতে পুত্রবধূ এসে নিভু নিভু সংসারটাকে আলো দিতে পারে। গুছিয়ে নিতে পারে নতুনত্ব দিয়ে। সাজিয়ে দিতে পারে আগের মতো করে। আর তাহিনের মা-ও দেখে যেতে পারেন পুত্রের সুখ আর পুত্রবধূর মুখ। শুরু হলো কনে খোঁজা। খোঁজাখুঁজির দিন তিনেকের মাথায়ই আবিরের বাবার স্মৃতিতে ভাসল প্রিয় বন্ধুর গুণবতী মেয়ের মায়াবী অবয়বখানা। পাশের গাঁয়েই থাকেন তাঁর বন্ধু। চতুর্থ দিন সব গোছগাছ করে তাহিনকে সঙ্গে নিয়ে কনে দেখা শেষ হলো। বাবার বন্ধুর মেয়ে, বড় মেয়ে নুড়া।

২.
নুড়া উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে চাকরিয়ান মেয়ে। চাকরি করে বিদেশি এক কোম্পানিতে। করোনার শুরুতেই ওর চাকরিটা হয়েছিল! বিদেশি কোম্পানি হওয়ায় আলাদা মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার মোহলত হাতছাড়া করেনি সরকারপক্ষ। ফলে করোনাকালেও খোলামেলা চলছিল ওদের কোম্পানি। বঙ্গদেশের প্রচলিত একটা বুলি, সুন্দরী মেয়েদের চাকরি হয়ে যায়। সেই বুলির কার্যকারিতায় হয়তো চাকরিটা হয় নুড়ার! নয়তো নুড়ার যা রেজাল্ট, তাতে চাকরি হয় না নিশ্চিত! প্রাইমারি শিক্ষিকা হওয়াটা মুশকিল বটে! ওদিকে তাহিন উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ঠিকই! তবে করোনাকালে কলেজ বন্ধ হওয়ায় একদম বেকার! না পারছে বাবার সঙ্গে ব্যবসায় হাত দিতে আর লজ্জার মুখে না হচ্ছে অন্য কিছু!
সেদিন; বিয়ে ঠিক হওয়ার পরদিন বোধ হয়! সারা তাহিনকে নুড়ার নম্বর দিয়েছিল! আবিরের ছোট বোন সারা। রাতে খাওয়ার পর আবির ফোন করে নুড়াকে। দীর্ঘ সময়ের প্রেমালাপ। কথাবার্তা শেষের দিকেই। অকস্মাৎ তাহিন জিজ্ঞেস করল, ‘কী করছেন?’
ও পাশ থেকে নুড়া বলল, ‘জব করছি। বিদেশি কোম্পানিতে।’
তাহিনের ধারণা ছিল, নুড়াও হয়তো বেকারত্বে ডুবে আছে! তাই পেশা জিজ্ঞেস না করে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এখন কী করছেন’। কিন্তু নুড়া থতমত খাইয়ে দিল তাহিনকে। উত্তর দিয়েই শেষ নয়! জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কী করছেন?’ তাহিনের যেন এই উত্তর অজানা। ভ্যাবাচেকা খেয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে লাইনটা কেটে দিল তাহিন।

৩.
আলো নিভিয়ে বালিশের পাশে ফোনটা রেখে দিল তাহিন। খানিক পরই ফোনের পর্দায় আলো জ্বলে উঠল। তাহিন ফোন হাতে নিল। নুড়ার কল। কলটা রিসিভ করবে কি না, সিদ্ধান্তহীনতার মধ্য দিয়েই ফোনটা ধরল।
ও পাশ থেকে রূপবতী-গুণবতী নুড়া এবার পরিচয় দিল জ্ঞানবতীর। কল রিসিভ হতেই গড়গড় করে বলতে শুরু করল—
‘আরে! সমস্যা নেই! দেশের অবস্থাই তো এমন! এমনিতেই কত শত মানুষ বেকার। আর করোনাকালে তো বেহিসাব মানুষ বেকার। চিন্তা করবেন না! কিছু একটা এমনিতেই হয়ে যাবে।’
লেখক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদির, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট।

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন