বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৃষ্টি আমার জীবনসঙ্গিনী! মানে ‘বৃষ্টি আমার বউ’ আরকি! কোনো এক বৃষ্টিদিনেই আমি বৃষ্টির হাত আর বৃষ্টি আমার হাত ধরেছিল। বৃষ্টির হাত ধরা থেকেই আমি হয়ে গেলাম বৃষ্টিপ্রেমী! ছোটবেলায় আকাশের বৃষ্টি থেকে দূরে থাকার জন্য বাবা-চাচাদের বিধিনিষেধ ছিল চরম পর্যায়ের! করোনার প্রথমার্ধের লকডাউনের মতোই। যেন বৃষ্টিতে ভেজাটাই পাপের পসরায় পড়ে। এভাবেই বৃষ্টি থেকে দূরে থেকে থেকে কাটিয়ে দিয়েছি শৈশব-কৈশোরের মধুরাঙা দিনগুলো। তাই বৃষ্টির প্রতি আমার অনীহা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। আর তা–ই হয়েছে। আকাশের বৃষ্টি আমার জন্য হয়ে গেল কালিমাযুক্ত যুবতীর মতন!

বৃষ্টির সংস্পর্শে এসেই আমি বৃষ্টিপ্রেমী হয়েছিলাম!
কারণ, আমাকে ছুড়া বৃষ্টির প্রথম প্রশ্নটাই ছিল—
কী ভালোবাসি, বৃষ্টি নাকি রোদ? ‘পড়াশোনা ভাল্লাগে না’ বুলিটি কপচানো আমার অভ্যাস! যেটা রক্তকণার সঙ্গে মিশে গেছে! তবু বিয়ের কার্ডটি ভালো করেই পড়েছিলাম। সবকিছুর পরেও বিয়েটা তো নিজের! বিয়ের কার্ডেই এ প্রশ্নের জওয়াবটা পড়েছিলাম। কার্ডে ওর নামের শেষে ‘বৃষ্টি’ শব্দটা ব্রেকেটে পুরা ছিল; ওটা আমার শঙ্কাহীন মনে আছে। তাই ওকে খুশি করার জন্য আমি আলতো হেসে উত্তর দিয়েছিলাম, বৃষ্টি।

default-image

মানে আমি বৃষ্টিই ভালোবাসি।
দিন গড়াল। বাড়ল প্রেমপ্রীতি। জাগল মোহমমতা। আমিও হতে লাগলাম প্রেমিকপুরুষ! নিজের অজান্তেই সেজে গেলাম বৃষ্টিপ্রেমী।

তখন বৃষ্টি নামলেই ভিজতে হয় বৃষ্টির হাত ধরে। সেদিনও বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই বাড়ি ফিরেছিলাম আমি আর বৃষ্টি । ফেরার খানিক পরেই বৃষ্টির গায়ে জ্বর উঠেছিল ১০২ ডিগ্রি। বৃষ্টি আমাকে প্রবোধ দিচ্ছিল। নিষ্পাপ নয়নে মাসুম শিশুর মতো তাকিয়ে বলছিল, ‘চিন্তা করো না! আমি সুস্থ হয়ে যাব। আমরা আবার বৃষ্টিবিলাস করব এক ছাতার নিচে করে। হাতে হাত ধরে।’ বৃষ্টি আমাকে কোনো দিনই মিথ্যে বলেনি! কিন্তু সেদিনই বৃষ্টি আমাকে মিথ্যে বলেছিল। এটাই ছিল বৃষ্টির বলা প্রথম এবং শেষ মিথ্যে কথা। বৃষ্টি এমনটা করেছিল আমাকে খুশি করার জন্য। মেঘলা আকাশের মাঝে রোদেলা হাসির দর্শন লাভের জন্য। আমার মুখাবয়বে এক চিলতে হাসির ঝলক পরখের জন্য। আমি সেদিন হেসেছিলাম। চাপা হাসি। কেবল বৃষ্টির জন্য। কারণ, বৃষ্টিকে আমি ভালোবাসি। হয়তো নিজের থেকেও বেশি।

সে রাতেই বৃষ্টি চলে যায়। আমাকে একা করে! বৃষ্টি চলে যায় বৃষ্টির মালিকের কাছে। আমাকে রোদপ্রেমী করে। জানি, এটা নিয়তির খেলা! তবু আকাশ ফেড়ে মৃত্তিকায় নেমে আসা বৃষ্টিকে আমি তুলে দিলাম অনীহার লিস্টে। বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকের মতন!
এখনো ঝরঝর ছন্দের বৃষ্টিকে আমি অপছন্দের থালায় রাখি। কারণ, তার ছোঁয়াতেই আমি হারিয়েছি আমার বৃষ্টিকে। কত দিন হলো তাকে জড়িয়ে ধরা হয় না শক্ত করে! চুমু এঁটে দেওয়া হয় না মায়াবী কপালে। ঘ্রাণ নেওয়া হয় না বৃষ্টির এলো চুলের। আকাশের বিচ্ছেদে বৃষ্টি আমার আর বৃষ্টির মাঝখানে দাঁড় করেছে বিচ্ছেদের পোক্ত দেয়াল! গলদেশে ঢেলে দিয়েছে বিচ্ছেদ নামী বিষের শরাব! যা আমি পান করছি প্রতিটি লহমায়!

বৃষ্টি হয়তো আচ্ছামতো করছে বৃষ্টিবিলাস। কবরের মাঝে।

default-image

কিন্তু আমি! আমি তো বৃষ্টির শোকে মৃতপ্রায়! শোকের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে নেমে আসা বৃষ্টিকে এখন আর ভালোবাসি না আমি! আমি ভালোবাসি আমার হারিয়ে যাওয়া বৃষ্টিকে।
আহা! কোথা থেকে কোথা চলে গেলাম! নামাজের সময় তো ঘনিয়ে এল। জামাত ধরতে হবে! ওদিকে জামাও তো শুকায়নি! থাক, না-ই শুকাক! একদিন না হয় জামা ভেজা থেকেও বৃষ্টির শোকে বৃষ্টি নামুক! জামা থেকে জল ঝরুক। ঝরুক অশ্রু টলটল করে আমার গাল বেয়ে। শুধু বৃষ্টির জন্য। আমার বৃষ্টির জন্য।
লেখক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদির, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন