বিজ্ঞাপন

মা মানেই হচ্ছেন শিশুদের শিক্ষক, চিকিৎসক ও দেখাশোনার জন্য দায়িত্বশীল একজন অভিভাবক। কথা বলেছিলাম ভোলার এমন কয়েক নারী অভিভাবকের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে দুজন হলেন তাসলিমা ও রাজিয়া সুলতানা।

তাসলিমা একজন গৃহিণী। তাঁর তিন সন্তান। বাবা প্রবাসী। সেই সুবাদে পরিবারের সব দায়িত্ব এখন তাসলিমার ওপর। সন্তানদের দায়িত্ব ও সংসারের সবকিছু তিনি একাই সামলান। তবে করোনায় তাঁকে একটু বেশি দায়িত্বের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগে সকাল হলেই বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যেতাম এবং স্কুল শেষে আবার বাসায় নিয়ে আসতাম। বাকি সময়টা বাচ্চারা প্রাইভেট টিচার আর কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমি তখন শুধু ওদের মনিটরিং করলেই চলত। কিন্তু এখন মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ায় বাচ্চাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বড়টা কিছুটা কথা শুনলেও মেজ ছেলেটা একেবারেই নাছোড়বান্দা। তেমন কোনো কথা শুনতেই চায় না। ছেলেটা এখন পড়াশোনার চেয়ে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে মোবাইল গেমসের ওপর। এতে যদি ছেলেকে বাধা দেওয়া হয়, তখন তার হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ছেলের কথা হলো, “আর কত দিন এভাবে বাসায় থাকব। আগে বিকেলে সাইকেল চালাতাম, এখন তা–ও দাও না। বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হচ্ছে, হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা লাগছে। এভাবে আর ভালো লাগে না।” তাই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে প্রযুক্তি গেমস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছি।’

রাজিয়া সুলতানা শিল্পীর দুই সন্তান। বড় মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা মো. হুমায়ুন কবির একজন কলেজপ্রভাষক। শিল্পী একজন অদম্য নারী। তিনি শিক্ষকতা পেশা যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি পরিবারের রান্নাবান্না, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, হাতের কাজ ও শিক্ষক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা মহামারিতে তাঁর চলমান জীবন এখন আটকে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বাসায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্তানকে সামলানো। ছেলে এমনিতেই প্রযুক্তি গেমসে আসক্ত। বাসার বাইরে যেতে বাধা দেওয়ায় সে এখন এটাকে প্রধান কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে। কোনো কিছুতেই এ থেকে তাকে সরানো যাচ্ছে না। বাধা দিলে উল্টাপাল্টা জবাব দেয় অথবা বোনের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে দেয়। তাই নীরবে এখন সয়ে যাচ্ছি।’

তবে এ সমস্যা শুধু তাসলিমা আর শিল্পীর নয়। এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিটি পরিবারের অভিভাকেরা। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময়ে শিশুদের বেশি বেশি গল্প শোনাতে হবে। চিত্রকলা, গান, নাচ প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হয়, এমন খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখা গেলে প্রযুক্তি আসক্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

*লেখক: এম শরীফ আহমেদ, তরুণ উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন